ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কী খাবেন, কী খাবেন না

শরীরে ইউরিক এসিডের সমস্যা থাকলে দেখে-বেছে খেতে হয়। কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো খেলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

বেশি চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া যাবে না। যেমন: গরুর মাংস, খাসির মাংস, ভেড়ার মাংস, মহিষের মাংস ইত্যাদি।

** কলিজা, মগজ, জিহ্বা ইত্যাদি।

** খোসাযুক্ত প্রাণী পরিহার করতে হবে। যেমন: চিংড়ি মাছ, শামুক। এ ছাড়া সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

** সব রকমের ডাল, বাদাম, মটরশুঁটি, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

** কিছু কিছু শাকসবজি খাওয়া যাবে না। যেমন: পালংশাক, পুঁইশাক, ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, পাকা টমেটো।

** অ্যালকোহল, ক্যাফেইন-জাতীয় পানীয়, যেমন: চা, কফি, কোমল পানীয় খাওয়া যাবে না।

** মিষ্টি ফলে ফ্রুকটোস থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্ফটিককে বড় করে দেয়। তাই মিষ্টি ফল পরিহার করাই ভালো।

যেসব খাবারে বাধা নেই

** চর্বিহীন মাংস খেতে হবে। যেমন: ছোট মুরগির মাংস। মাছ, কুসুম ছাড়া ডিম পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে।

** বেশি আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: সবজি, শাক ইত্যাদি। এই আঁশ স্ফটিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীর থেকে মল আকারে বের হয়ে যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে হবে। যেমন: লেবু-চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (পেয়ারা, আমলকী, কমলা, মাল্টা), গ্রিন-টি ইত্যাদি খেতে হবে।

** এই সময় চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করতে হবে।

কারা আক্রান্ত হয় বেশি?

** যাদের বংশে বাতের সমস্যা আছে, তারা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

** যারা প্রোটিন-জাতীয় খাবার চাহিদার তুলনায় বেশি খেয়ে থাকেন এবং শাকসবজি কম খায়।

** যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করে।

** কিছু কিছু ওষুধ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

** উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, হৃদ্রে সমস্যা থাকলে তাদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে।

** যাদের ওজন বেশি, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

** যারা পানি কম পান করে, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে।

** ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।