মৃদু শৈত্য প্রবাহে নীলফামারীতে তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে। শনিবার জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে সৈয়দপুর আবহাওয়া দপ্তর।
চলতি শীত মৌসুমে জেলায় এটিই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এমন তাপমাত্রা বিরাজ করায় জেলায় বেড়ে শীতের তীব্রতা।
শনিবার সকালে সূর্যের দেখা মিললেও হারিয়ে যায় দুপুরের পর। এরপর থেকে কুয়াশাঢাকা আকাশে বাড়তে থাকে শীতের প্রকোপ। আবহাওয়া দপ্তর সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্ত সূর্যের উষ্ণতায় তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বিকেল চারটার পর থেকে রাত পর্যন্ত তাপমাত্রা কমে তীব্র শীত অনুভূত হবে।
এই শীতে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় ড়্গেত খামারের কাজে নামতে পারছেন না তারা। পাশাপাশি গরম কাপড়ের অভাব বিরাজ করছে এসব পরিবারে।
জেলার সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের কৃষি শ্রমিক নিহার রঞ্জন রায় (৫৫) বলেন,সাত দিন ধরি ঠান্ডাত জমিত কাজ করির পারেছ না। বাড়িত জমানো টাকাও শ্যাষ। এলা কি হোবে কবার পারেছ না।
একই উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিষমুড়ি গ্রামের কায়েকি শ্রমিক আব্দুস সামাদ (৪০) বলেন, সাকালের ঠাণ্ডা বাতাসোত জমিত কাজ করা কঠিন। কামাই কম, হামেরা অভাবোত আছি। এরপর শীতের কাপড় কিনিবার টাকা পামো কোনঠে?
শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে শীত জনিত রোগ-বালাই। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জাকিয়া সুলতানা বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে গড়ে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচশত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
সৈয়দপুর বিমান বন্দরের আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে জেলায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। শনিবার জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় সর্ব নিম্ন সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি বছরের শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, সরকারিভাবে জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ কম্বল এবং নগদ ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলার ছয় উপজেলা এবং চার পৌরসভার মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। যা বিতরণের কাজ চলছে।