বরিসে সর্বনাশ যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জীবনে আগামী দুই সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। এ দুই ঘটনা সম্পর্কে তিনি সত্যিই সচেতন কি-না তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এই ঘটনাগুলো যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে গভীর ছাপ ফেলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জনসনের নীতিনির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভবিষ্যৎ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাজ্যকে ব্রেক্সিট ও করোনাভাইরাসের মতো মহামারী সামাল দিতে হচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবে ব্রেক্সিট ও করোনাভাইরাস উভয় ইস্যুই জনসনের জন্য বিপজ্জনক। করোনা প্রশ্নে জনসন সরকারের নেওয়া রক্ষণশীল পদক্ষেপ তার নিজের দলেই সাড়া পায়নি। এই কারণে জনসনকে বড়দিনের উৎসব পালনে কিছুটা ছাড় দিতে হয়েছে। এদিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রেও জনসনের হাতে খুব বেশি সময় নেই। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিরা গতকাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এখনো নো ডিলের জন্য প্রস্তুত নয়। অথচ প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই বলে আসছেন, যেকোনো মূল্যে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চান।

ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ কী ঘটতে যাচ্ছে তা এখনো ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, আবার যুক্তরাজ্যও কিছু জানে না। বাণিজ্য চুক্তি না হলে যুক্তরাজ্যের যেমন ক্ষতি, তেমনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। সমালোচকরা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এই সংকটের জন্য বরিস জনসনের দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরও বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে স্পষ্ট করতে পারেননি।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জনসন দুই দফায় সমালোচনার শিকার হন। প্রথমত তিনি বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কেইর স্ট্রামারকে বড়দিন বাতিলের দাবি নিয়ে দোষারোপ করেন। অথচ জনসনও কিন্তু লেবার পার্টির মতোই করোনার বিস্তার রোধে বড়দিন বাতিলের পক্ষেই ছিলেন। কিন্তু দলের চাপে নিজ সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে আসেন তিনি। করোনা ইস্যুর পরেই তিনি সমালোচনার শিকার হন ব্রাসেলসে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার কারণে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েনের সঙ্গে আলোচনার পরেও জটিলতা কমেনি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল অপারেশনাল রিসার্চ ইউনিটের নির্বাহী প্রধান ক্রিস্টিনা প্যাগেল সিএনএনকে বলেন, ‘বড়দিনে করোনার বিস্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানেও ভাইরাস হানা দিচ্ছে। বড়দিনে পাঁচ দিনের জন্য পরিবারের সদস্যরা মিলিত হওয়ার যে সরকারি সুবিধা পেয়েছে, এর মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলেও তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা যাবে না। আর এতে স্বাভাবিক নিয়মেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।’

করোনার চেয়েও জনসনের বড় মাথাব্যথা ব্রেক্সিট। এখনো উভয়পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা চলছেই। কিন্তু যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসীমায় ইউরোপের নিঃশর্ত মাছ শিকার নিয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের পর যুক্তরাজ্যকে ইউরোপের একক বাজার ছাড়তে হবে। তখন উভয়পক্ষই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে বাণিজ্য করবে। এতে যুক্তরাজ্য ও ইইউ উভয়কেই চড়া শুল্ক গুনতে হবে রপ্তানির প্রশ্নে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ চাপের মধ্যে আছে জনসনের অবস্থান নিয়ে। কারণ তারা চাইছে ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে।