আপন চাচাতো ভাইকে হত্যার দায়ে ৩ ভাই জেলে, অন্য ১ ভাই পলাতক। এদিকে স্ত্রীরাও শাশুড়ীকে রেখে আত্মগোপনে। এরপর ৬দিন থেকে থেকে বৃ্দ্ধা জুবেদা খাতুন একাই ঘরে থাকতেন। ঘটনার পর পাড়া প্রতিবেশীও বাড়িতে যাওয়া বন্ধ করে দেন।
সেই বৃদ্ধা একা ঘরে দু-তিনদিন আগে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। কিন্তু স্বজনরা কেউ না থাকায় বৃদ্ধার লাশ ঘরে থেকেই পচন শুরু হয়।
সোমবার থানা পুলিশ ঘরের বিছানা থেকে জুবেদা খাতুনের পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে। এমন ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভূকশীমইলের আলমপুরের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূকশীমইলের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরশহরের ব্যবসায় আব্দুল মনাফকে গত ১২ ডিসেম্বর তারই চাচাতো ভাই শাহীনূর রহমান শাহিদসহ স্বজনরা হত্যা করে তাদের বাড়ির পেছনে একটি গর্তে মাটিচাপা দিয়ে পুঁতে রাখে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ শাহীনূর ও তার ভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে। পরে পুলিশ ওইদিন রাতে শাহীনূরদের বাড়ির পিছনে স্যাফটিক ট্যাংকির পাশে গর্ত থেকে মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শাহীনূর রহমান ও তার বড় ভাই আতিকুর রহমান চান মিয়াসহ জড়িত ৭ আসামীর ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে এঘটনার পর থেকে শাহীনূর ও আতিকুর রহমানের স্ত্রী-সন্তানরা এবং তাদের ভাই শাহিদুল বৃদ্ধা মা জুবেদা খাতুনকে একা ঘরে রেখে পালিয়ে যায়। ওই বৃদ্ধার মেয়ে আফসা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে সোমবার সকালে বাবার বাড়িতে এসে ঘরে অনেক ডাকাডাকি করে মায়ের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায়।
খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায়সহ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে ঘরের ভিতরে বিছানা থেকে জুবেদা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
পুলিশ আরো জানায়, দুই তিন দিন আগে হয়তো বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। লাশে পচন ও গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃদ্ধা অসুস্থ অবস্থায় হয়তো ঘরে মারা যেতে পারেন। অধিকতর তদন্ত ও নিশ্চিতের জন্য ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।