ভারতে বায়ুদূষণে ১ বছরে ১৭ লাখ মৃত্যু

ভারতে বায়ুদূষণে ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৯ সালে অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যানসেট এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতে ২০১৯ সালে বায়ুদূষণে ১৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি নিয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ল্যানসেটের প্রতিবেদনে যে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে তাতে ভারতের পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া সংখ্যাই যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণের শহরগুলোর অধিকাংশই ভারতে। তথাকথিত উন্নয়ন ও গাছ কমে যাওয়ার কারণে ভারতের শহরগুলোতে বায়ুদূষণের মাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশটিতে ১২ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল এই দূষণ। দূষণ কমাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাতে যে কোনো কাজ হয়নি তার প্রমাণ ২০১৯ সালে দূষণে মৃত্যুর এই মিছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দূষণের কারণে শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা, ফুসফুস ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, স্নায়ুবিক ব্যাধি ও চোখে ছানির মতো রোগ বাড়ছে। রাজধানী দিল্লির অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। শহরটিতে শীতের সময় ধুলা আর কুয়াশা মিলে অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যায়। বায়ুদূষণের কারণে ২০১৯ সালে ভারতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। এ ক্ষতির বড় অংশের শিকার দেশটির উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্য। ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কভিড-১৯ লকডাউনের সময় ভারতে বায়ুর মানের কিছুটা উন্নয়ন হয়েছিল। কিন্তু লকডাউন সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সাবেক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে ভারতের বায়ুর মান। মানুষের জীবনমান ও গতি না কমিয়ে কীভাবে দূষণ কমানো যায়, সেদিকেই ভারতের নজর দেওয়া উচিত।’

ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, রাজ্যভিত্তিক দূষণ কমাতে বাজেট প্রণয়ন করা হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে পৌঁছতে হলে বায়ুদূষণের মাত্রা কমাতে হবে। ভারত বর্তমানে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দেশ। তবে অর্থনীতির পরিধি যত বাড়বে ততই শিল্পকারখানা ও অবকাঠামো উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। আর এ উন্নয়নের সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের মূল শহর নয়াদিল্লি, কলকাতা এবং মুম্বাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে অন্যতম। আবার এ তিনটি শহর একই সঙ্গে উন্নয়ন সূচকেও এগিয়ে।