গত পাঁচ দিন ধরে চলছে চলতি মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতায় পর্যুদস্ত দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। যদিও শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার ও মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের প্রায় পাঁচটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার কমলেও গতকাল দেশের সর্বনিমœ তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে কমেছে। এদিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিমœ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন একই স্থানে সর্বনিমœ তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীতের প্রকোপের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে কাজে নামতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।
তাদের অভিযোগ, শহর এলাকায় সরকার এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও গ্রামের লোকজন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি সপ্তাহের বাকি কদিন শীতের প্রকোপ প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে ফের তাপমাত্রা কমে গিয়ে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম গত রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার বাড়ার শঙ্কাও কম। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিক থেকে আবার তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। তখন আবার শৈত্যপ্রবাহের বিস্তারও বাড়তে পারে। ওই সময় রাজধানীতেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
গত শুক্রবার রংপুর বিভাগের তিন জেলায় মৃদু মাত্রায় শুরু হয় মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ। পরের দিন শনিবার তা চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া বাকি বিভাগগুলোর অন্তত ৩৭টি জেলায় বিস্তার লাভ করে।
পাশাপাশি অনেক জেলায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা মৃদু থেকে বেড়ে মাঝারি মাত্রায় পৌঁছে। ওইদিন কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখন পর্যন্ত এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং বেশকিছু এলাকা থেকে শৈত্যপ্রবাহ দূরীভূত হয়। গত সোমবার তাপমাত্রা আরেকটু বৃদ্ধি পায় এবং শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার কমে প্রায় ১০টি জেলায় সীমাবদ্ধ হয়।
পাশাপাশি অনেক এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কমে যায়। মঙ্গলবার শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আরও কমে গিয়ে পাঁচ জেলায় সীমাবদ্ধ হয়। এদিন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, গোপালগঞ্জ, কুমিল্লা, তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
একমাত্র তেঁতুলিয়াতেই মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ ছিল। অন্যান্য স্থানে ছিল মৃদু মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ। মঙ্গলবার প্রায় সারা দেশেই সামগ্রিকভাবে দিনের তাপমাত্রা বেড়েছে। এদিন রাজধানীতে দিনের তাপমাত্রা বেড়েছে এবং রাতের তাপমাত্রা কমেছে। রাতের সর্বনিমœ তাপমাত্রা আগের দিনের ১৪ ডিগ্রি থেকে কমে গতকাল ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আগের দিনের ২৪ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে গতকাল রেকর্ড হয়েছে ২৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।