প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুর্জিব বর্ষের ঘোষণা অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় এবার ফরিদপুরে ঘরের অভাব ঘুচবে ১৪৭০ পরিবারের। নিজেদের জন্য আধাপাকা ঘর তৈরি হচ্ছে দেখে মুখে হাসি ফুটেছে ঘরহীন ওইসব মানুষের।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের নয়টি উপজেলায় বাস্তুহারা পরিবারগুলোকে ওইসব সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। আসছে বছরের প্রথম মাসেই এসব ঘর-জমিসহ সুবিধাভোগীদের হাতে দলিল করে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। উপকারভোগীদের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক অতুল সরকার আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এসব ঘর করতে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ২৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার বেশি। প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই টাকায় তাদের জন্য ২০ ফুট বাই ২২ ফুট প্রস্থের ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, শৌচাগার ও সামনে খোলা বারান্দা।
জেলা প্রশাসক অতুল সরকার গত শনিবার সকালে ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নে নির্মিতব্য এসব ঘর পরিদর্শনকালে আরও বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসহায় পরিবারের জন্য উপহারস্বরূপ এসব আশ্রয়স্থল করে দিচ্ছেন। এই কাজ বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, উপকারভোগীদের মাঝে এই ঘর প্রাপ্তির খবরে যে আনন্দের ঝিলিক দেখতে পেয়েছি, সেই আনন্দাশ্রু আমাদের আগামীর পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম রেজা বলেন, জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) নিবিড় তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠছে আশ্রয়হীন মানুষের এসব স্বপ্নের ঠিকানা ‘স্বপ্ননীড়’। স্থানীয় সাংসদসহ উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানরাও কাজে এগিয়ে এসেছেন।
উপকারভোগীদের একজন রাশেদ খাঁ (৭০) জানান, তার নিজের কোনো ঘর নেই। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে গট্টি ইউনিয়নের ঝুনাখালীতে পরের জমিতে পাটখড়ি ও পলিথিন দিয়ে টংঘর তুলে থাকতেন। এখন এই ঘর পেলে নিজের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে। একইভাবে ঘর পাওয়ার আনন্দের কথা জানালেন একই এলাকার বেশ কয়েকজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া বাজারে সড়কের পাশে খাস জমিতে একটি মুজিব বর্ষ ভিলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। সাত সকালে খবর সংগ্রহে সেখানে গেলে দেখা যায়, খুব ভোরেই সেখানে কাজের তদারকি করতে চলে এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। অসহায় এসব পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণকাজ যাতে সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় এজন্য তারা নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান মাঠ প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা।