সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে নারীকে ‘ধর্ষণ-ভিডিও ধারণ’ ইউপি চেয়ারম্যানের

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকারের (৪৯) বিরুদ্ধে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে সরকারি সুবিধা ও অনুদান দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বীরগঞ্জ থানায় ২২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার পলাতক আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে অভিযোগকারী ওই নারী বলেন, ‘আমার প্রথম স্বামীর সঙ্গে আমার বিবাহ বিচ্ছেদের পর আমি আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করি। এই সময়ে নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার আমাকে সরকারি সাহায্য ও অনুদান দেওয়ার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে ও অন্যান্য জায়গায় আমাকে ডেকে নিয়ে বিয়ে করবে বলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন।

ওই নারী আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে ঈদুল ফিতরের সময় সরকারি চাল দেবে বলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি চেয়ারম্যানের কথামত চাল নেওয়ার জন্য গেলে ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে আমাকে ধর্ষণ করে। যদি এসব কথা বাইরে কোথাও বলি তাহলে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে লোক দিয়ে হত্যা করবে এবং আমার লাশ গুম করবে বলে হুমকি দেয়।

এভাবে আব্দুল খালেক সরকার আমার সঙ্গে ২০১৫ সাথ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে কৌশলে সেগুলোর ভিডিও ধারণ করে রাখে।

আব্দুল খালেক সরকারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে বিয়ের কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলেন।

পরে আব্দুল খালেক সরকারের ভাবগতি ভালো না দেখে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তখন আব্দুল খালেক সরকার আমাকে ডেকে বলেন, ধর্ষণের ভিডিও তিনি ধারণ করে রেখেছেন। আমি যদি তার কথামত ও তার সঙ্গে সম্পর্ক না করি তাহলে সেই ভিডিওগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, একপর্যায়ে আব্দুল খালেক সরকারের আচরণ ও ব্যবহার আমার কাছে অসহনীয় হয়ে পড়লে আমি নিজেকে রক্ষার্থে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য সৌদি আরবে চলে যাই।

ওই নারী বলেন, আমি দুই বছর বিদেশে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরত আসলে আমার বাবা-মা আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে দেন। আমি বিদেশ থেকে দেশে আসার খবর আব্দুল খালেক সরকার জেনে গিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে আমাকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। আমাকে শর্ত দেয়, যদি আমি আবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করি তাহলে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও মুছে ফেলবে। আমি সেই ভিডিও ফেরত পেতে আবার আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। গত ২২ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে আব্দুল খালেক তাকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করতে থাকে।

‘আমি বিষয়টি টের পেয়ে মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে মেমোরি কার্ড খুলে নেই এবং চিৎকার চেঁচামেচি করতে ধরলে আব্দুল খালেক দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকার ও আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।’

এ বিষয়ে গতকাল (বুধবার) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক সরকারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বীরগঞ্জে সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেছে।

তবে এই ঘটনায় নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পলাতক আছেন বলে জানিয়েছেন বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় ওই নারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামি আব্দুল খালেক সরকার পলাতক আছেন। পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছি আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য।’