সিরাজগঞ্জে পৃথক ৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা ও সলঙ্গা থানার নলকা এলাকায় ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সামনে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ফারদীন হাসান সোহাগ (১৪) নিহত ও তার বাবা গোলাম ফারুক (৪৮) আহত হয়েছে। নিহত ও আহতরা ওই ইউনিয়নের দত্তকোষা কামারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।  

এলাকাবাসী আরও জানায়, মোটরসাইকেল আরোহী পিতা-পুত্র সাহেবগঞ্জ বাজার থেকে সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। তাদের মোটরসাইকেলটি কাচা সড়ক ছেড়ে মহাসড়কে ওঠামাত্র পেছন থেকে ছুটে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে বুধবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ একটি বাস মেরামতের সময় বাসের নিচে চাপা পড়ে রাশেদুল ইসলাম (২৬) নামে এক মোটর মেকানিক (মিস্ত্রি) নিহত হয়। নিহত রাশেদুল রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষিকোলা গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে বগুড়াগামী তানজিলা পরিবহন নামের বাসটি চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এসে বিকল হয়ে যায়। রাশেদুল ওই বাসের নিচে শুয়ে বাসটি মেরামত করছিল। এ সময় চালক ইঞ্জিন চালু করলে বাসের চাকার নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি নূরন্নবী প্রধান জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বাসটি জব্দ করা হয়েছে।

অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের শিয়ালকোল সার্কিট হাউজের সামনে সিরাজগঞ্জ-নলকা চারলেনের আঞ্চলিক সড়কে নবনির্মিত স্পিড ব্রেকারে ধাক্কা লেগে বুধবার রাত ১১টার দিকে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নাঈম (২৫) নামে এক যুবক নিহত ও দুই যুবক আহত হয়। নিহত নাঈম শহরের গোশালা মহল্লার সিদ্দিক মাস্টারের ছেলে। আহতরা হলেন,ওই মহল্লার কানাই চৌধুরীর ছেলে বাপ্পী চৌধুরী (২৬) ও চন্দন কুমারের ছেলে পার্থ (২৪)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে করে শহরে আসার পথে ওই স্পিড ব্রেকারে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলসহ ছিটকে পড়ে নাঈম। তার পেছনে থাকা অপর মোটরসাইকেলে বাপ্পী ও পার্থ এসেও একইভাবে ছিটকে পড়ে। এলাকাবাসী তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাঈমের মৃত্যু হয়। বাপ্পীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে নিহতর পরিবার অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।