প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর

বিটিভিকে আরও গণমুখী করার পরিকল্পনা

আরও গণমুখী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ৫৭ বছরে পা রাখছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশন নামে চালু হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরপর বাংলাদেশের জন্মের পরের বছর সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলার ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ১৯৮০ সালে দর্শকদের রঙিন পর্দা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন যুগে পা রাখে বিটিভি। এখন বিটিভি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে দেশের বাইরেও নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিটিভির ৫৬তম বর্ষপূর্তি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির জন্য এবার বড় পরিসরে কোনো আয়োজন থাকছে না। তবে বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বল্প পরিসরে উদযাপন করবে দিনটি। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার করবে চ্যানেলটি। দুটি স্টুডিও থেকে এই লাইভ অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। এতে শুভেছা বিনিময়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিটিভির রামপুরার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘বদলে যাবে বদলে দিবে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিটিভি আরও গণমুখী হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ।

মহাপরিচালক বলেন, ‘টেলিভিশনকে তো পিছিয়ে থাকলে চলে না; আমরাও যুগোপযোগী হতে, আরও গণমুখী হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রোগ্রাম তৈরি করছি, যেগুলো এই মুজিব শতবর্ষে শিগগিরই প্রচারে যাবে। বিটিভি নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিটিভির অনুষ্ঠান ক্রমশই আধুনিক হচ্ছে এবং বিষয়-বৈচিত্র্য সাজানো জনবান্ধব অনুষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমরা দর্শককে আরও বেশি বিটিভির সঙ্গে সংযুক্ত করতে খবর ও বিনোদনের পাশাপাশি দর্শকবান্ধব অনুষ্ঠানের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিভির অনুষ্ঠান ও পরিচালনা পরিচালক জগদীশ এষ, উপমহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) ড. তাসমিনা আহমেদ, উপমহাপরিচালক (বার্তা) অনুপ খাস্তগীর, ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার নাসির মাহমুদসহ কর্মকর্তা ও প্রযোজকবৃন্দ।

বিটিভি থেকে জানানো হয়, ২০২০ সালে কিছু নতুন অনুষ্ঠান চালু করেছে চ্যানেলটি।  যেমন করোনাভাইরাসের সর্বশেষ তথ্য, ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা নিয়ে সরাসরি অনুষ্ঠান ‘এই সময়’। প্রতিদিনের খবর ও খবরের বিশ্লেষণ নিয়ে সরাসরি অনুষ্ঠান ‘খবর প্রতিদিন’। এ ছাড়া স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা, বিটিভির সংলাপ, সরাসরি গানের অনুষ্ঠান নিশি গুনগুন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে। চালু হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকের রাজনৈতিক টক শো ‘বাংলাদেশ ফাইলস’, ধারাবাহিক তথ্যচিত্র ‘নাটের গুরু’ ও সকালের সরাসরি অনুষ্ঠান ‘শুভ সকাল বাংলাদেশ’। নারীরা কথা বলছেন তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে ‘ফিফটি পার্সেন্ট’ অনুষ্ঠানে। শুরু হয়েছে জেলাভিত্তিক বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে।’