শনাক্তের হার ১০ শতাংশের মধ্যেই স্থির

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত অনেকটাই কমে এসেছে। বেশ কয়েক দিন ধরে রোগী শনাক্তের শতকরা হার ১০ শতাংশের মধ্যে থিতু হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে প্রায় ১০ ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১০ দিনের মধ্যে ৯ দিনই ১০-এর কম শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু এক দিন ১০ শতাংশের সামান্য বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর শনাক্তের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। গত আগস্ট পর্যন্ত শনাক্তের সর্বোচ্চ হার ছিল ২২-২৫ শতাংশের মধ্যে। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক থেকে শনাক্তের হার কমতে থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ১০-১৩ শতাংশের মধ্যে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শনাক্তের হার হঠাৎ বেড়ে যায়। সেই ঊর্ধ্বগতি প্রায় এক মাস অব্যাহত থাকে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার আবার কমতির দিকে রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত চার দিন শনাক্তের হার ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। গত এপ্রিলের পর আর কোনো মাসে ৯ শতাংশের কম হারে রোগী শনাক্ত হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ২৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন ১৩ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে কম। আগের দিন বুধবার ৩০ রোগীর মৃত্যু হয়েছিল।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৯২তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সর্বমোট ১৬৩টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি জিন-এক্সপার্ট ও ২৯টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষাগার, বাকিগুলো আরটি-পিসিআর। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ৩৮৯টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ২২৭টির। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ২৩৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এদিন শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৩৪৫ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৬ হাজার ১০২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৩৭৮ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৫ ও নারী ৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১, চট্টগ্রামে ৪, ময়মনসিংহে ৩ এবং খুলনায় ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৪, ৫১-৬০ বছরের ২, ৪১-৫০ বছরের ২ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। ১৭ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং দুজন বাড়িতে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৬২২ ও নারী ১ হাজার ৭৫৬ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ২০ ও নারী ২৩ দশমিক ৮০ ভাগ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৭৬, খুলনায় ৫২০, রাজশাহীতে ৪৩১, রংপুরে ৩৩১, সিলেটে ২৯০, বরিশালে ২৩৬ এবং সর্বনিম্ন ১৬২ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৬১৩ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ৮৯১ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৩২৮ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৫১০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৬০৬টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩১৫টিতে।