প্রথম দফায় ২৪ পৌরসভায় ভোট আজ

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই বছরের শেষ প্রান্তে এসে দেশের ২৩ জেলার ২৪ পৌরসভায় ভোট আজ সোমবার। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমরাও মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। খুব ভালো।ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে, পাশাপাশি ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে সেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার মধ্যরাতে আনুষ্ঠানিক সব প্রচার শেষ করেছেন প্রার্থীরা। প্রচারণার শুরুর দিকে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও শেষদিকে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোটের প্রচার নিয়ে দুয়েকটি এলাকায় হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন ঘিরে এমনিতে যে উত্তাপ থাকে, এবার মহামারীর বাস্তবতায় ততটা নেই। প্রতিটি পৌরসভায় একজন মেয়র, তিনজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও নয়জন করে সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। তবে বরাবরের মতোই ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা আর বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এসব পৌর এলাকায়। পাশাপাশি লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীও।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ১০ হাজারের কম ভোটারের পৌরসভার জন্য এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ১০ হাজারের বেশি ভোটারের পৌরসভার জন্য দুই প্লাটুন এবং ৫০ হাজারের বেশি ভোটারের জন্য তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকছেন। বিজিবিতে প্রতি প্লাটুনে গড়ে ৩০ জন করে থাকেন।

এ নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১১ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৩ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে। প্রতিটি পৌরসভায় পুলিশ, আনসারের স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স এবং র‌্যাবের টিম থাকছে। ২৪ পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন ৯৪ জন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২৬৬ এবং কাউন্সিলর ৮০১ জনসহ মোট প্রার্থী ১ হাজার ১৬১ জন। মোট ভোটার ৬ লাখ ২৪ হাজার ৮০৭ জন। পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ৩৭ জন। নারী ভোটার ৩ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন। ২৪ পৌরসভায় মোট ৩১৯ ভোটকেন্দ্র। ১ হাজার ২৭৬ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। ২ হাজার ৮৭১ জন আনসার সদস্য। ৭২টি র‌্যাবের টিম। ৫০ প্লাটুন বিজিবি। ৭২টি মোবাইল ফোর্স এবং ২৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স বিদ্যমান রয়েছে।

 

যেসব পৌরসভায় ভোট : পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, রংপুরের বদরগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রাজশাহীর পুঠিয়া ও কাটাখালী, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পাবনার চাটমোহর, কুষ্টিয়ার খোকসা, চুয়াডাঙ্গা, খুলনার চালনা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, নেত্রকোনার মদন, মানিকগঞ্জ, ঢাকার ধামরাই, সুনামগঞ্জের দিরাই, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। প্রথম ধাপে ২৫টি পৌরসভায় ভোট হওয়ার কথা থাকলেও গাজীপুরের শ্রীপুরের একজন মেয়র প্রার্থীর মৃত্যু হলে ভোট পিছিয়ে দ্বিতীয় ধাপে নেওয়া হয়।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপের ২৪টি পৌরসভায় মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ইভিএমের ‘মক ভোটিং’ হয়েছে। এবার চার ধাপে পৌর নির্বাচন করছে কমিশন। তার মধ্যে তিন ধাপে ১৫০টি পৌরসভার তফসিলও হয়েছে। ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৬১ পৌরসভায় ভোট হবে। এর মধ্যে ২৯টি পৌরসভায় ইভিএম এবং ৩২ পৌরসভায় ব্যালটে ভোটগ্রহণ হবে। আর তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌরসভায় ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে সর্বশেষ তফসিল দেওয়া হয়েছে। বাকি যেসব পৌরসভা ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন উপযোগী হচ্ছে, সেসব এলাকায় চতুর্থ ধাপের ভোট হবে।

দেশে মোট পৌরসভা রয়েছে ৩২৯টি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের আগের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানে ভোট করতে হয়। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের পর ২০১৫ সালে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয় পৌরসভায়। সেবার ২০টি দল ভোটে অংশ নেয়।