শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের বিত্তবান মানুষের দায়িত্ব। এটি মানবসেবার উত্তম দৃষ্টান্ত এবং ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। অসহায় মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়াতে উৎসাহ দেয় ইসলাম। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সদয় হলে আল্লাহও তার প্রতি সদয় হন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দয়াশীলদের ওপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীকে দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪১)
দানশীল মানুষকে আল্লাহ দুনিয়া-আখেরাতে সম্মানিত করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় দানশীল নারী-পুরুষ এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ১৮)
মানুষের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়ভাজন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি সে, যে মানুষের উপকারে আসে। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল মুসলমানদের খুশি করা, তাদের বিপদাপদে পাশে দাঁড়ানো, তাদের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া, ক্ষুধার্তদের ক্ষুধা নিবারণের ব্যবস্থা করা।’ (আল মুজামুল আউসাত, হাদিস : ৬০২৬)
মুসলমান মুসলমানের ভাই। একজনের ব্যথায় আরেকজনকে ব্যথিত হতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান যদি অন্য মুসলমানের উপকার করে, আল্লাহও তার উপকার করেন। সে যদি কারও কষ্ট দূর করে, আল্লাহও হাশরের মাঠে তার কঠিন কষ্ট দূর করবেন।’ তিরমিজি, হাদিস: ১৪২৬)
দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র শীত পড়ছে। এমতাবস্থায় সামর্থ্যবান মানুষের কৃপণতা কাম্য নয়। কৃপণতা ধ্বংস ডেকে আনে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা কৃপণতার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা কৃপণতার কারণে ধ্বংস হয়েছে।...’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৯৮)
বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দেওয়ার অনেক ফজিলত ও নেকির কথা হাদিসে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মুমিন অপর মুমিনকে কাপড় পরিয়ে দেবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরাবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৪৯) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাকে জান্নাতি পোশাক পরাবেন।’ (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ৯২)
প্রতি বছর বহু মানুষ শীতের প্রকোপে জীবন হারাচ্ছে, এই মৃত্যুর দায় আমরা এড়াতে পারি না। আমরা যদি এই দায়িত্ব এড়িয়ে চলি, শীতার্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাসের আগুনে আমাদেরও পুড়তে হবে। আল্লাহর কাছে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।