করোনা উপেক্ষা করে থার্টি ফাস্ট নাইটে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। সরকারি ছুটিতে করোনাময় পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে সৈকতে সমবেত হয়েছে হাজারো মানুষ। এ জন্য কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে এসব পর্যটকদের সরকারি বিধি-নিষেধ ও নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউকে সামনে রেখে আগামী ২০২১ সালকে বরণ করতে যাচ্ছে বিশ্ব। থার্টি ফার্স্ট নাইট ও আগামী বছরকে স্বাগত জানাতে গত দুদিন থেকে কক্সবাজারে এসেছে লাখেরও বেশি পর্যটক। সৈকত এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। করোনা মহামারিতেও পর্যটকদের স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন বালাই নেই। সৈকতে পুলিশ এবং প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও পর্যটকেরা মুখে মাস্ক দেওয়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিধি মানছে না।
বছর ঘুরে থার্টি ফাস্ট নাইট আসলেই কক্সবাজারে শেষ সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় জমায় লাখো পর্যটক। ২০২০ সালটি করোনায় দুঃসময় কাটলেও এবারও ব্যতিক্রম হয়নি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। পুরোনো বছরের বিদায়ী সূর্যাস্ত দেখতে ভিড় জমিয়েছে লাখো পর্যটক। যেন করোনার ভয়াবহতা ভুলতে বসেছে। তাই এসব পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
সৈকত ভ্রমণে আসা পর্যটক দম্পতি সফিউল বারি ও রাহেলা রুমি জানান, করোনাময় ২০২০ সালের সব দুঃসময়ের স্মৃতি ধুয়েমুছে ২০২১ সালের উদীত সূর্যোদয়ে একটি নতুন পৃথিবী দেখার প্রত্যাশায় আছি। আমরা চাই আগামী নতুন বছরে করেনামুক্ত পৃথিবী হোক।
কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ রোড হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান জানান, করোনায় থার্টি ফাস্ট নাইটে কক্সবাজারে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে ইতিমধ্যে প্রায় কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব পর্যটকেদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, থার্টি ফাস্ট নাইটে সরকারি বিধি-নিষেধ ও কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের সার্বিকভাবে নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল টিম, পোশাকধারী পুলিশ ও কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে বলে জানান, টুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এ বছর সৈকতে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। ফলে হোটেল মোটেলেও এ বছর কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে না। এরপরও সৈকতে পর্যটকদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিদর্শনে আসা বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রামের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, করোনার এই সময়ে সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সৈকতে সূর্যাস্ত অবলোকন করা দরকার। প্রতিবছর সৈকতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা থাকলেও এ বছর সরকারি সিদ্ধান্তে সব আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।
সৈকত ঘুরে দেখা গেছে, বিকেল গড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে শীতের হিমেল হাওয়ায় বালিয়াড়িতে বছরের প্রথম সূর্যোদয় অবলোকন করছে পর্যটক। করোনামুক্ত নতুন বছরের ছোঁয়ায় জেগে ওঠার অদম্য প্রত্যয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মনের আনন্দে। স্বাস্থ্যবিধি মানা ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে টুরিস্ট পুলিশ।
২০২০ সালের সব দুঃসময়ের স্মৃতি ধুয়েমুছে ২০২১ সালের উদীত সূর্যোদয়ে একটি নতুন পৃথিবী দেখার প্রত্যাশায় সৈকতে আসা পর্যটকেরা। করোনার অশুভ শক্তি যেন শান্তির শুভ শক্তির কাছে পরাভূত হয়। সবার জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে আসুক নতুন বছর। এমন প্রত্যাশা সকলের।