বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ ইতিমধ্যেই করোনা প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছে। ফাইজার ও মডার্না করোনার টিকা তৈরির পরই মূলত এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ৫০টির মধ্যে সব দেশই যে ফাইজার ও মডার্নার টিকা দেওয়া শুরু করেছে এমন নয়। চীন তাদের নিজেদের তৈরি করা টিকা দিচ্ছে জনগণকে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন মতে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চীন ৫০ লাখ নাগরিককে টিকা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পেইচিং শর্তসাপেক্ষে সিনোফার্মের টিকাকে বৈধতা দিয়েছে। সিনোফার্মের টিকাটি ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাশিয়া গত ৫ ডিসেম্বর থেকেই টিকা দেওয়া শুরু করেছে। করোনার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের স্পুৎনিক-ভি টিকা দেওয়া হচ্ছে। বেলারুশ ও আর্জেন্টিনার সরকার এ টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশ দুটি স্পুৎনিক-ভি দেওয়ার ব্যাপারে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। আলজেরিয়াও চলতি মাসেই এ টিকা দেওয়া শুরু করবে।
পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেন প্রথম টিকা দেওয়া শুরু করে। দেশটি গত ৮ ডিসেম্বর থেকে টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করে। ইতিমধ্যে ৯ লাখ ৫০ হাজার নাগরিককে টিকা দিয়েছে জনসন প্রশাসন। ফাইজারের টিকা ছাড়াও দেশটি খুব জলদিই নিজেদের তৈরি করা অক্সফোর্ডের টিকা দিতে শুরু করবে। গত বৃহস্পতিবার জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দিয়েছে। বলা হচ্ছে, ৪ জানুয়ারি থেকে অক্সফোর্ডের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ ডিসেম্বর, সুইজারল্যান্ড ২৩, সার্বিয়া ২৪ ডিসেম্বর তারিখ থেকে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামীকাল থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। আর এ দেশগুলো ব্যবহার করবে ফাইজারের টিকা।
মধ্যপ্রাচ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চীনের সিনোফার্মের টিকা দিচ্ছে। গত ১৪ ডিসেম্বর আবুধাবিতে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। ২৩ ডিসেম্বর তারিখে দেশটির অন্যতম শহর দুবাইয়ে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু হয়। এছাড়া সৌদি আরব ও বাহরাইন গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। এ দেশ দুটি দিচ্ছে চীনের টিকা।
লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকো, চিলি ও কোস্টারিকা ২৪ ডিসেম্বর থেকে ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু করেছে। তবে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীনের টিকার ওপর বেশি ভরসা করছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরেও টিকার ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। তবে অন্য মহাদেশগুলোর তুলনায় টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে এশিয়া। এশিয়ার অন্যতম দেশ ভারতে এখনো টিকা কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও ৪ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।