ওয়ার্নের অভিষেকে ভালো বোলার শচিন

অভিষেক টেস্টের স্কোর কার্ডের দিকে তাকিয়ে শেন ওয়ার্ন কী ভাববেন কে জানে। তবে অন্যরা কৌতুক বোধ করতে পারেন এই ভেবে যে, সিডনি টেস্টে ওয়ার্নের চেয়ে ভালো বল করেছিলেন শচিন টেন্ডুলকার।

১৯৯২ সালের ২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল সিডনি টেস্ট। সেই সময় শচিন রীতিমতো স্টার। ব্লন্ড চুলের ওয়ার্ন অভিষেকের অপেক্ষায়। প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি পরে বলেন, ‘আমি যখন প্রথম শচিনকে দেখি, তখন ওর বয়স ২১। কিন্তু দেখতে ১০ বছরের বাচ্চার মতো লাগছিল। সিডনিতে আমাদের সব বোলারকেই যথেচ্ছ পিটিয়েছিল। এটাই হচ্ছে শচিনের বিশেষত্ব। তাকে দেখতে লাগে অতি সাধারণ। কিন্তু খেলে অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে।’

সিডনিতে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করেন শচিন। প্রায় ৫ ঘণ্টা উইকেটে থেকে ১৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে নবাগত লিটল মাস্টারের কাছে যা প্রত্যাশিতই ছিল। বরং তার বোলিংটাই ছিল অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

শচিন ও শেন ওয়ার্ন নিজেদের প্রথম টেস্ট উইকেট নিয়েছিলেন সিডনিতে। আত্মজীবনী ‘প্লেইং ইট মাই ওয়ে’তে ভারতীয় কিংবদন্তি লিখেছেন, ‘অ্যালান বোর্ডার এবং মার্ভ হিউজ বাঁচিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। আমি এক ওভার বল করে হিউজের উইকেট নিয়েছিলাম। আমার কাছে ওটা ছিল বিরাট ঘটনা। কারণ টেস্ট ক্রিকেটে ওটা আমার প্রথম উইকেট। ৭৩ বল খেলে ২১ করেছিলেন হিউজ। আমার বলে সিøপে দাঁড়িয়ে মনোজ প্রভাকর ক্যাচটা নিয়েছিলেন। একটাই আফসোস, তাকে আরেকটু আগে আউট করতে পারিনি। তাহলে টেস্টটা আমরা জিততেও পারতাম।’ সিডনি টেস্টে শচিনের বোলিং ফিগার ১-০-২-১। তুলনায় শেন ওয়ার্নের ৪৫-৭-১৫০-১কে খুব সাধারণ লাগে।

সিডনিতে ডাবল সেঞ্চুরি করা রবি শাস্ত্রিকে আউট করেন ওয়ার্ন। ক্যাচটা নিয়েছিলেন ডিন জোন্স। পঞ্চম উইকেটে শচিন আর শাস্ত্রি ১৯৬ রান তুলেছিলেন। এই জুটির হাতে মার খাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ওয়ার্ন পরে বলেন, ‘ওরা সেদিন একটা ভালো বলও ফিল্ডারের হাতে মেরে নষ্ট করেনি। বরং দুই ফিল্ডারের গ্যাপ দিয়ে তা সীমানার বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। তাতে আমাদের বোলাররা চাপে পড়ে যায়। শচিন আমাদের খুব সাধারণ বোলারের মতো খেলছিল। ওরা যদি আক্রমণাত্মক না হয়ে উইকেট বাঁচাত, তা হলে বোলার হিসেবে আমরা মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতাম। তখন উইকেটের যেখানে খুশি বল ফেলতাম। আসলে আমাদের লাইন-লেন্থ সব এলোমেলো করে দিয়েছিল শচিন।’

সিডনি টেস্টে আগে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড বুনের সেঞ্চুরিতে (১২৯*) তারা ৩১৩ রান করে। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ওয়ার্ন ঘণ্টাখানেকের বেশি উইকেটে থেকে ২০ করে কপিল দেবের বলে আউট হয়েছিলেন। তিনি বল হাতে নেন ১৯৯২ সালের ৩ জানুয়ারি। সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনে বৃষ্টি হয়েছিল। তাই বেশি ওভার খেলা হতে পারেনি। মূলত চতুর্থ দিনে ওয়ার্নের ওপর চড়াও হন শাস্ত্রি-শচিন। এদের ব্যাটে ভর করেই একমাত্র ইনিংসে ৪৮৩ করে ভারত। ১৭০ রানের লিড পেয়েছিল তারা। অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নেমে একপর্যায়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায়।  এরপর অ্যালান বোর্ডার অপরাজিত ৫৩ রান করে হিউজকে (২১) নিয়ে ম্যাচ ড্র করেন।

সিডনি টেস্টে ওয়ার্নের সঙ্গেই সুব্রত ব্যানার্জির অভিষেক হয়। প্রথম ইনিংসে ভারতীয় মিডিয়াম পেসার ১৮ ওভার বল করে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেননি। আর কোনো টেস্টও খেলেননি। অন্যদিকে সিডনি টেস্টে ব্যর্থ শেন ওয়ার্ন কী করেছেন তা গোটা দুনিয়া জানে। টেস্টে ৭০৮ উইকেট নিয়ে তিনি লেগ স্পিনের পুনর্জন্ম দিয়ে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ প্রবাদটাকে ভুল প্রমাণ করেছিলেন।