৯০ শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ

রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের ৯০ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সকাল সোয়া ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল কবিরকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীরা।

এ সময় চিনিকলের প্রশাসনিক কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাও আটকা পড়েন। পরে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন তারা।

চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, সরকারি নিয়োগবিধি মেনে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণের পর প্রায় এক যুগ ধরে চাকরি করছেন এই ৯০ শ্রমিক-কর্মচারী। এসব শ্রমিক-কর্মচারী কানামনা (কাজ নাই, মজুরি নাই) ভিত্তিতে নিয়োগ পান। কিন্তু গত ৩১ জানুয়ারি করপোরেশনের মৌখিক নির্দেশে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়।

এই চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীরা শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে চিনিকলের প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসানসহ কয়েকজন পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন টেলিফোনে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে সোয়া ১টায় অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকরা।

এ বিষয়ে রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা বলেন, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চিফ অব পারসোনেল মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজের ঘোষণা অনুযায়ী আখমাড়াই স্থগিত হওয়া চিনিকলগুলোর কোনো শ্রমিক-কর্মচারীর চাকরি যাবে না। তাদের বেতন-ভাতা আগের মতোই নিয়মিত দেওয়া হবে। কিন্তু কোনো প্রজ্ঞাপন বা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই চিনিকলের কারখানা বিভাগের ৯০ শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। এটা কোনো শ্রমিক-কর্মচারীই মেনে নেবেন না।

এদিকে টানা পাঁচ মাস বেতন বকেয়া থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করা শ্রমিকরা হঠাৎ চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন আবু সুফিয়ান সুজা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের চাকরি না থাকার কারণে চিনিকল কর্তৃপক্ষ এখনো চাষিদের জমি থেকে আখ সংগ্রহ করতে না পারায় ক্ষেতে আখ নষ্ট হওয়ায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে আখচাষিদের। ইতিমধ্যে অনেক জমির আখ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। সময়মতো আখ কাটতে না পারায় ওই জমিতে অন্য ফসলও ফলাতে পারছেন না তারা।

এ প্রসঙ্গে রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল কবির জানান, আখমাড়াই বন্ধ হওয়ায় কারখানায় কোনো কাজ না থাকায় কানামনাভিত্তিক ৯০ শ্রমিককে প্রথম পর্যায়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের সদর দপ্তরে আলোচনার জন্য আজ (গতকাল শনিবার) ঢাকায় যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে তাদের নিয়োগ বহাল রাখার চেষ্টা করব।