নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

হাইকোর্টে আসামি মোজাম্মেলের জামিন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা ও এর ভিডিওচিত্র ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলার আসামি কারাবন্দি মোজাম্মেল হেসেন ওরফে সোহাগ মেম্বারকে জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। জামিন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

ভিডিও কনফারেন্সে আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. অজিউল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি। জামিন পাওয়া মোজাম্মেল হেসেন ওরফে সোহাগ বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। হাইকোর্টের আদেশের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএজি সারওয়ার হোসেন বাপ্পি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দণ্ডবিধির ২০২ ধারায় এর সাজা ছয় মাস। গত বছর অক্টোবর থেকে আসামি কারাগারে রয়েছেন। এসব বিষয় তার আইনজীবী তুলে ধরেন। আদালত বক্তব্য শুনে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। জামিন কতদিনের সেটি পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে জানা যাবে।’

গত বছর ২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারীকে (৩৫) বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণের চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। এর ৩২ দিন পর গত ৪ অক্টোবর ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ঘটনার পর নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছুদিন অবরুদ্ধ করে রেখে পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলেও এক মাস এলাকাবাসী ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ‘অগোচরেই’ ছিল এ ঘটনা। ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে আলাদা তিনটি মামলা করেন। মামলাগুলোর তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ধর্ষণচেষ্টা ও ঘটনার আগে ধর্ষণের অভিযোগে করা আলাদা দুটি মামলায় মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ নভেম্বর নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদের মধ্যে ধর্ষণের মামলার দুই আসামিও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা এবং ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা দুই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার এবং চারজন পলাতক। বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত করা হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী জামালউদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে।