বেক্সিমকোর নেতৃত্বে লেনদেন ২০০০ কোটি টাকা ছাড়ালো

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে করোনা টিকা আমদানি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ১০ বছরের ব্যবধানে গতকালের এই মাইলফলক লেনদেনে নেতৃত্বে ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার ২৬ শতাংশ ছিল বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লেনদেন। সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে সাময়িক যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তাতে পুরো বাজারেই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ের চাঙ্গাভাবের কারণে গতকালও শেষ পর্যন্ত সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ করে দিনের লেনদেন শেষ হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা মিলে করোনাভাইরাসের যে টিকা তৈরি করেছে, তার উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গ যুক্ত রয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। কোভিশিল্ড নামের ওই টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। ভারত থেকে ওই টিকা বাংলাদেশে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। টিকার দায়িত্বের কারণেই দুই মাস ধরে বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এর প্রভাবে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য শেয়ারের দরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে হঠাৎ করেই এই টিকা প্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় সেরাম ইনস্টিটিউটের শীর্ষ এক কর্মকর্তার বক্তব্যে। 

রবিবার রাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনাওয়ালার বরাত দিয়ে বলা হয়, টিকা রপ্তানি শুরুর আগে আগামী দুই মাস তারা ভারতের স্থানীয় চাহিদা পূরণ করতেই জোর দেবে। তার ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, টিকা রপ্তানিতে ‘নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে’ ভারত। ওই খবরে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া বিলম্বিত হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়। এমন সংবাদের পর গতকাল পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরু থেকে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের চাঙ্গাভাবে নেতৃত্বে থাকা বেক্সিমকো গ্রুপের শেয়ার নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান বিনিয়োগকারীরা। বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারে বিক্রিচাপ বেড়ে যাওয়ায় দর হারাতে শুরু করে। এর প্রভাবে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য শেয়ারের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ সিকিউরিটিজ দর হারাতে শুরু করে। এতে করে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সূচক আগের দিনের চেয়ে কমে যায়। তবে পরে সরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে সংশয় নেই বলে জানানো হলে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচকে ৩৩ পয়েন্ট যোগ করে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।

লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইতে যে ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, তার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে বেক্সিমকো লিমিটেড থেকে। ডিএসইতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মায় ২০৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় গতকাল ৫৭৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা কেনাবেচা হয়েছে। তবে টিকা নিয়ে অস্থিরতার কারণে বেক্সিমকো ফার্মা, শাইনপুকুর সিরামিকস ও আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর কিছুটা কমেছে।

গতকাল ডিএসইতে যে লেনদেন হয়েছে তা আগের দিনের চেয়ে ২৬৮ কোটি টাকা বেশি। ২০১০ সালে দেশের পুঁজিবাজারে মহাধসের পর এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এ উচ্চতায় পৌঁছাল লেনদেন। এর আগে গত ২৮ জুন একবার ২ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয় ডিএসইতে। তবে ওই দিন জেএসকে বিডি লিমিটেডের শেয়ার ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের কাছে হাতবদলই ছিল এর বড় কারণ। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার লেনদেন হয় ডিএসই। এর আগে সবশেষ এ পরিমাণ লেনদেন হয়েছিল ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এরপর থেকেই দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কবলে পড়ে পুঁজিবাজার।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৫২ পয়েন্টে। স্টক এক্সচেঞ্জটি লেনদেন হওয়া ৩৬২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৭টির, কমেছে ১৪২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬৩টির দর।