আগামী ২৩ ও ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনগামী দুটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ইতিমধ্যে বিষয়টি যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে ফিরে টানা ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার ভয়ে শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ বাতিল করেছেন ১৫২ যাত্রী। তাদের মতো আরও কয়েকজন যাত্রী লন্ডন থেকে আপাতত দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবার বিমানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৩ ও ৩০ জানুয়ারি সিলেট-লন্ডন রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের বাইরে দুটি অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শুধু এ দুটি ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে। এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে।
এদিকে দেশে ফেরার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার ভয়ে যাত্রা বাতিল করছেন লন্ডন থেকে সিলেট ও ঢাকামুখী যাত্রীরা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (স্ট্রেইন) শনাক্তের পর দেশটি থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন নিজ খরচে হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের এ নির্দেশনা জারির পর বিমানের টিকিট কাটা ১৫২ যাত্রী ফ্লাইট বাতিল করেছেন। ফলে লন্ডন থেকে গতকাল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন মাত্র ৪৮ যাত্রী।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শাহনেওয়াজ মজুমদার বলেন, আজ (গতকাল) বিমানের যে ফ্লাইটটি সিলেটে এসেছে সেই ফ্লাইটে দুই শতাধিক যাত্রী দেশে আসার জন্য টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু দেশে ফিরে নিজ খরচে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার খবরে ১৫২ জন ফ্লাইট বাতিল করেন। এ কারণে মাত্র ৪৮ যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে ফ্লাইট আসে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য নগরের দুটি হোটেল প্রস্তুত করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (কভিড-১৯ ও মিডিয়া সেল) লাবিবা অর্ণব বলেন, ‘নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনার পর যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনেকেই দেশে আসার আগ্রহ হারিয়েছেন। বিমানবন্দর থেকে সরকারি বাসে যাত্রীদের হোটেলে নিয়ে আসা হবে। তারা যাতে হোটেলের বাইরে না যেতে পারেন এবং হোটেলে যাতে তাদের স্বজনরা প্রবেশ না করেন তা তদারকি করতে হোটেলগুলোর সামনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন ধরন শনাক্তের কারণে দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে। ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা যাত্রীদের নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গত ২৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সপ্তাহের প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট আসে।