ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ করে চলছে রাস্তা মেরামতের কাজ। গত সোমবার সকাল থেকেই হঠাৎ করে প্রধান ফটক বন্ধ করায় হাসপাতালে আসা শত শত মুমূর্ষু রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে। জরুরি বিভাগের পাশের বিকল্প ফটকও বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুটি ফটক বন্ধ থাকায় রাস্তা থেকে দীর্ঘপথ রোগীদের হাঁটিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। আবার বেশি গুরুতর রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের বহির্বিভাগ অথবা চানখারপুল গেইট দিয়ে ঘুরিয়ে জরুরি বিভাগে আনা হচ্ছে। এতে অনেকটা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। হঠাৎ এমন দুর্ভোগের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিন দিন বন্ধ থাকবে প্রধান এই ফটক।
গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত রোগী ছুটে আসছে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। কারও হাত দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, কারও মাথা ফেটে গেছে, কেউ আবার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাঁটার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে প্রবেশের পাশাপাশি দুটি ফটকই বন্ধ রয়েছে। প্রধান ফটক বন্ধ করে রাস্তার নির্মাণকাজ চললেও পাশের ঐতিহাসিক আমতলা গেইটটিও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এর আগে জরুরি বিভাগের রাস্তায় কোনো মেরামত কাজে প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলেও আমতলা গেইটটি খুলে দেওয়া হতো বলে জানা গেছে। যা দিয়ে রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন সরাসরি জরুরি বিভাগের সামনে এসে থামত।
ঢাকা মেডিকেলের ২১৭ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত এক নারী সিনিয়র স্টাফ নার্স সোমবার বিকেলে তার ষাটোর্ধ্ব মা রোকেয়া বেগমকে রিকশায় করে নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিকেলে। সেখানকার জরুরি বিভাগের ফটক বন্ধ থাকায় তার মাকে রিকশা থেকে নামিয়ে পকেট গেইট দিয়ে হাঁটিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। এ সময় তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়াবেটিসের কারণে আমার মায়ের পায়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না তিনি। কাঁঠালবাগান থেকে রিকশায় করে মাকে নিয়ে এসেছি হাসপাতালে। এখানে এসে দেখি জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক বন্ধ। রিকশাচালক আমাদের এখানেই নামিয়ে দিয়েছে। এখন দুজন ধরে ধরে তাকে হাঁটিয়েই ভেতরে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে কোনো হুইল চেয়ারও নেই।’
গতকাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. জিন্নত কুমিল্লা থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীকে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা মেডিকেলে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢোকার সময় দেখতে পান প্রধান ফটক বন্ধ। এরপর আবার যানজট ঠেলে অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে ১০ মিনিট সময় খরচ করে অন্য পাশের গেইট দিয়ে ঢুকে জরুরি বিভাগে রোগী নামিয়ে দেন তিনি।
মালিবাগের বাসায় বঁটিতে ডান হাত কেটে যাওয়া মিনা আক্তারকে (৩৫) ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন তার স্বামী মো. দুলাল ও প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া জান্নাতুল। তারা জানান, মালিবাগ থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে হাসপাতালে এসেছেন। গেইট বন্ধ থাকায় মিনাকে নামিয়ে পকেট গেইট দিয়ে হাঁটিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তার হাতে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। মাথা ঘুরিয়ে বেহুশ হয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। তবুও কষ্ট করে তাকে ভেতরে নিয়ে যেতে হয়।
হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্বরত আনসার রাজিউর জানান, সোমবার সকাল থেকে রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গেইটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এদিক দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশাসহ কোনো গাড়িই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের প্রশাসনিক গেইট বা নতুন ভবনের গেইট দিয়ে ঢোকার কথা বলছি।’
রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে কথা হলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জরুরি বিভাগের রাস্তা মেরামতের জন্য প্রধান ফটকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আরও কয়েক দিন ফটকটি বন্ধ রাখা হবে।’ হাসপাতালে আগত মুমূর্ষু রোগীদের সুবিধার্থে পাশের আমতলা গেইটটি খুলে দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমতলা গেইটটি খুলে দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না। এজন্য দুটি গেইটই বন্ধ রেখে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। আশা করি আগামী ২-৩ দিনের ভেতরেই আমরা কাজ শেষ করে রাস্তা খুলে দিতে পারব। আপাতত হাসপাতালের অন্য গেইটগুলো দিয়ে চলাচলের জন্য সবাইকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’