অস্ত্র মামলায় নূর হোসেনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অস্ত্র মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চাঁদাবাজির অপর একটি মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ রাজিয়া সুলতানা এ রায় দেন।

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলায় নূর হোসেনকে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

অস্ত্র মামলার রায় উপলক্ষে গতকাল বেলা ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নূর হোসেনকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সালাউদ্দিন সুইট এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার পর নূর হোসেনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর নূর হোসেন ও তার ৫ সহযোগীর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা দেন এক ব্যবসায়ী।  এ মামলায় তাকে খালাস দেয় আদালত। একই আদালতে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে আরও ৬টি মামলার শুনানি হয়।

মামলাগুলোর মধ্যে ২০১৪ সালে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের পর নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অবৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ৩টি মামলা করে পুলিশ। এরপর ২০১৪ সালের ১২ জুন ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নূর হোসেন, তার ভাই নূর উদ্দিন, ভাতিজা শাহজালাল বাদল, লোকমানসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন অটোরিকশাচালক সাইদুল ইসলাম।

শিমরাইলে নূর হোসেনের মাদক স্পট থেকে ২৯০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের এসআই শওকত হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আরেকটি মামলা করেন। এছাড়া সাত খুনের পর নূর হোসেনের বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসন। অস্ত্রটি জমা দিতে বলা হলেও তিনি না দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। এ ঘটনাতেও অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ ও ৩১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় হওয়া মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।