সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্যের ছেলে ও বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করা বজলুর রশিদের মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে মুলকান্দি বাজারের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এলাকাবাসী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে জালালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বজলুর রশিদের বাবা জয়নাল আবেদীন জালালপুর ইউনিয়ন শান্তি কমিটির ৪ নম্বর সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জয়নাল আবেদীন পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের সহযোগিতায় নিরীহ লোকদের ধরে ধরে হত্যা করেন। তার ছেলে বজলুর রশিদ কোনো দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েই তিনি ভুয়া তথ্য দিয়ে ২০০৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হন। তিনি আরও বলেন, বজলুর রশিদ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে ভুয়া সনদের মধ্যেমে মুক্তিযোদ্ধা সেজে মাসিক ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। অথচ তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা শান্তি কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বজলুর রশিদের ওই সময়ের সহপাঠী সৈয়দপুর গ্রামের মজিবর রহমান, তার ভাগনে মুলকান্দি গ্রামের গোলজার হোসেন, প্রতিবেশী বন্দেজ আলী, আনছার আলী মোল্লা, গোপাল দাসসহ অর্ধশত এলাকাবাসী। তারা বজলুর রশিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও গেজেট থেকে তার নাম বাদ দেওয়াসহ তার সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা বাতিলেরও দাবি জানান। এ বিষয়ে বজলুর রশিদ বলেন, সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক।