লালমনিরহাটে সালিশকারীকে পিটিয়ে হত্যা

লালমনিরহাটে ‘বিচার পছন্দ না হওয়ায়’ আবদুল হালিম (৫৪) নামে গ্রাম্য সালিশের এক সালিশকারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে জেলার সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচওড়া গ্রামে হত্যার এই ঘটনা ঘটে। তবে এর সূত্রপাত হয় রংপুরের হারাগাছ বাজারে। নিহতের ছেলে শাহিনুর ইসলাম লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।  

লালমনিরহাট থানায় দেওয়া এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের হরিণচওড়া গ্রামের কবির উদ্দিন দালালের ছেলে মজিবর রহমান (৪৫) পার্শ্ববর্তী রংপুরের হারাগাছ উপজেলার দরজিটারী গ্রামের চাঁন মিয়া (৫০) দুইজনেরই তামাক ব্যবসা করেন। ব্যবসার সূত্রেই চাঁন মিয়ার কাছে টাকা পান মজিবর রহমান।  তাদের পাওনা নিষ্পত্তিতে হারাগাছ উপজেলার পাইকারবাজার এলাকার মোনায়েম হাজী ও আবদুল হালিম মধ্যস্থতা করেন। দুই মাস আগে মজিবর রহমান ও চাঁন মিয়ার মাঝে একটি লিখিত চুক্তিনামা হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি মাসের ১ তারিখে পাওনা টাকার দেড় লাখ টাকা পরিশোধের দিন ধার্য ছিল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে হারাগাছ উপজেলার টাংরিবাজার এলাকায় চাঁন মিয়াসহ ওই দুজনকে ফোনে ডেকে আনেন মজিবর রহমান। বাজারের আলেফজান হোটেলের সামনে টাকা পরিশোধ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মজিবর রহমান ও তার লোকজন তাদের কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মজিবর রহমান তাদের তুলে নিয়ে আসেন হরিণচওড়া এলাকার নিজ বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় দফায় মারপিট শুরু হলে চাঁন মিয়া ও মোনায়েম হাজী পালাতে পারলেও গুরুতর আহত অবস্থায় আটকা পড়েন মাতব্বর আবদুল হালিম। পরে লোকজন খবর পেয়ে ওই রাতেই আহত আবদুল হালিমকে উদ্ধার করে হারাগাছ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ  লাশের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়।

রংপুর মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার প্রধান ও এডিসি (ডিবি) উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, সালিশ বৈঠকটি যেখানে বসেছিল, সেটি লালমনিরহাট সদর থানার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানেই মামলা হবে।

আবদুল হালিমের ছেলে শাহিনুর রহমান বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।