৯ মাসে সবচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার আরও কমেছে। গত মঙ্গলবার শনাক্তের হার ২৬৯ দিন পর ৭ শতাংশের নিচে নামার পর গতকাল বুধবার তা আরও কমেছে। এদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ পরীক্ষা করতে আসা প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ছয়জনের করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। শনাক্তের এ হার ২৭০ দিন বা ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আগের দিন মঙ্গলবার রোগী শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে সর্বশেষ গত বছর ১১ এপ্রিল ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই দেশে করোনার সংক্রমণ কমতির দিকে রয়েছে। এর মধ্যে শেষের ১৩ দিনের মধ্যে ১১ দিন শনাক্তের হার ৭-৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। দুদিন ধরে তা ৬ শতাংশের ঘরে রয়েছে।

গতকাল নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৭৮ জন। এ নিয়ে নতুন বছরের গত ছয় দিনই হাজারের কম করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনায় মৃত্যু কমেছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন মারা গিয়েছিল ২০ জন। এ ছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে সহস্রাধিক করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০০ জনই ঢাকা বিভাগের।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ৩০৫তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ১৮১টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ১টিসহ ২৭টি জিন-এক্সপার্ট, ৪০টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং বাকিগুলো আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৬৮৯টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৫৪৪টির। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ২১ রোগী সুস্থ হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩৩ লাখ ২ হাজার ৪২৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৬৮৭ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮০ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৮ ও সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৫ ও নারী ২ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুরে ২ জন করে এবং খুলনা ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১১, ৫১-৬০ বছরের ৩, ৪১-৫০ বছরের ২ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিল ১ জন। ১৭ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৮৪৬ ও নারী ১ হাজার ৮৪১ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ০৫ ও নারী ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৩২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৪২০, খুলনায় ৫৩৮, রাজশাহীতে ৪৪৩, রংপুরে ৩৪৮, সিলেটে ২৯৪, বরিশালে ২৩৮ এবং সর্বনিম্ন ১৭৪ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৯ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৪৫৬ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ২৭১ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৮ হাজার ৪৯৪ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৪৪৫টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৮৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৬০২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২৭০টিতে।