করোনাভাইরাসের টিকার ক্ষেত্রে তার দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও ‘অগ্রাধিকার’ দেবে ভারত।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমনটা জানান ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।
তিনি বলেন, ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ওষুধ মন্ত্রণালয়- তাদের কেউ টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলেনি, কেউ বলেনি যে রফতানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা বারবার বলে আসছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমাদের ভ্যাকসিন মানবতার জন্য ব্যবহৃত হবে। আমাদের জন্য আমাদের অগ্রাধিকার ভারত, আমাদের নিজের লোকেরা অবশ্যই এবং আমাদের প্রতিবেশীরা। এর বাইরে আর কী আশ্বাস আমরা দিতে পারি।
বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ভারতের একাধিক সংস্থা ভ্যাকসিন উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং তাদের টিকা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বাকিটা নির্ভর করে কতটা ভ্যাকসিন তারা উৎপাদন করতে পারে তার ওপর। এটা এমন বিষয় না যা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না বা কেউ এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা একেবারেই সাধারণভাবে উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে। কোম্পানি যত বেশি উৎপাদন করতে পারবে, তত বেশি তারা রপ্তানি করতে পারবে।
দোরাইস্বামী বলেন, এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। সরবরাহটা শুরু হতে দিন, তিনি টিকার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কোম্পানিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ভারত সরকারকে টিকা দেবে। তাদের উৎপাদন আর বিতরণের কাজটা শুরু করতে দিন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা মিলে করোনাভাইরাসের যে টিকা তৈরি করেছে, তার উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া।
সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে নভেম্বর চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সোমবার এই টিকা আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের সরবরাহকারী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোভিশিল্ড ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার এক মাসের মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ টিকার প্রথম চালান পাঠানোর কথা সেরাম ইনস্টিটিউটের।