ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার দু’বছর পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে গতকাল বাফুফে ভবনে গেলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে বাফুফেও দাবি-দাওয়ার লম্বা ফর্দ মেলে ধরেছে। রাসেলও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাধ্যমতো সহযোগিতার।
পাঁচটি এজেন্ডায় মোট ১২টি দাবি গতকাল মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বাফুফের কর্তারা। প্রথম এজেন্ডায় ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে বাফুফের জন্য থোক বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। দ্বিতীয় এজেন্ডায় রাজধানীতে স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ফুটবল স্টেডিয়াম, কমলাপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় অ্যাকাডেমির কর্মকান্ড শুরুর জন্য সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নকরণ, পল্টন ময়দানে ফ্লাডলাইট, কৃত্রিম টার্ফ, ড্রেসিং রুম ও বেষ্টনী স্থাপন, বাফুফে ভবনের পাশে কৃত্রিম টার্ফে ফ্লাডলাইট স্থাপনসহ সুযোগ সুবিধা বাড়ানো, বাফুফে ভবনে বিদ্যুতের সাব-স্টেশন স্থাপন, বাফুফে ভবনের প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত জিমন্যাশিয়ামের জন্য সহায়তা ও কক্সবাজারে ফিফা-এএফসির পরামর্শ মেনে পূর্ণাঙ্গ ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের দাবি জানানো হয় মন্ত্রীকে। তৃতীয় এজেন্ডায় বিকেএসিপতে রিজিওনাল ফুটবল সেন্টারের জন্য জায়গা চাওয়া হয়। চতুর্থ এজেন্ডায় জেলা স্টেডিয়ামগুলোকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া এবং শেষ এজেন্ডায় ফুটবল অ্যাকাডেমি নিয়ে ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রীর সহায়তা চাওয়া হয়।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন সহায়তা দেওয়ার ‘আগামী চার বছর ফুটবল ফেডারেশন কীভাবে চলবে, তাদের কাজগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়গুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি তা নিয়েও কথা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’ দুটি স্বতন্ত্র স্টেডিয়ামের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় একটি ও কক্সবাজারে একটি স্টেডিয়াম করার উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এর একটা নকশাও হয়েছে। আজ (গতকাল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই নকশা দেখেছেন। কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো বাস্তবায়ন সাপেক্ষে তিনি অনুমোদনও দিয়েছেন।’
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন করে গড়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও ভাবছি। কিন্তু অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এটার আয়ুষ্কাল এখনো আছে। ইচ্ছে করলেই শত শত কোটি টাকার সম্পদ ভেঙে ফেলা, নষ্ট করে দেওয়া ঠিক হবে না। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের টাকায় গড়া। যতদিন সম্ভব, এটা আমরা ব্যবহার করব।’
সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে প্রায় দু’বছর ধরে সিলগালা থাকা ফুটবল ক্লাবগুলো খোলার বিষয়টি তুলে ধরা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘ক্লাবগুলোর এই বিষয়ে দুটি মন্ত্রণালয় জড়িত। লাইসেন্স দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর বন্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটা কোনো উপায় বের করব। যারা দায়ী তাদের শাস্তি হোক, কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠান তো অপরাধ করতে পারে না। ক্লাবগুলো যাতে রক্ষা করা যায়, খুলে দেওয়া যায়, সেটা নিয়ে অবশ্যই আমরা আলোচনা করব।’
প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ আয়োজনের জন্য বাফুফে চায় টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে। এই স্টেডিয়ামটি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বাবার নামে নামকরণ। তাই স্বভাবতই এ নিয়ে প্রশ্ন ছিল মন্ত্রীর কাছে। যদিও মন্ত্রী ফুটবলকে মাঠটি বরাদ্দের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি, ‘আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম নিয়ে আজ কথা হয়নি। সামনে অলিম্পিক গেমস আছে, স্টেডিয়ামটা আরচারি জাতীয় দল ব্যবহার করছে। আরচারির যাতে ক্ষতি না হয়, সেটাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি এই স্টেডিয়ামে যদি অন্য খেলাগুলো আয়োজন করতে চায়, তবে সেটা সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনা করেই করা হবে।’