সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সুনই জলমহালের দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় এক জেলে নিহত হয়েছেন। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। জলমহালে থাকা একপক্ষের স্থাপনা (খলা) পুড়িয়ে দিয়েছে অন্যপক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই রাতেই জলমহাল এলাকা থেকে ২৩ জনকে আটক করেছে।
হামলায় নিহত ব্যক্তির নাম শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫)। তিনি উপজেলার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। শ্যামাচরণকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ধরমপাশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার ও ধরমপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনতাসির হাসান।
তবে এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হায়তুন নবী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরমপাশার সুনই জলমহাল নিয়ে দুই মৎস্যজীবী সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। একপক্ষ সম্প্রতি স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ভাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। দুপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় জলমহালের পাড়ে থাকা একপক্ষের মাছের খলায় আরেকপক্ষ আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন শ্যামাচরণ বর্মণকে গলা কেটে হত্যা করে। তখন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হায়তুন নবী বলেন, জলমহালটির ইজারা নিয়ে স্থানীয় দুই মৎস্যজীবী সমিতির নেতা চন্দন বর্মণ এবং সুবীর বর্মণের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরে সংঘর্ষে চন্দন বর্মণ পক্ষের শ্যামাচরণ বর্মণ নিহত হন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন সংঘর্ষের সময় একপক্ষে ধরমপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন ছিলেন। জলমহাল পাড়ের আশপাশের গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের মোবাইল ফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।