দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানির সরকারি অনুমতি পাওয়ার পর প্রায় দুই বছর পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় ভারত থেকে তিনটি ট্রাকের মাধ্যমে ১১২ টন চাল দেশে প্রবেশ করে। হিলি কাস্টমসের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩০ মে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল। এর পরে চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর আমদানি বন্ধ ছিল। দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে সরকার সে সময় চালের আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে চালের দর রুখতে আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে। চলতি মাসের ৩ ও ৫ তারিখ দুদফায় হিলিসহ দেশের ২৯ জন আমদানিকারককে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সম্প্রতি আবারও তা কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয় বলে জানা গেছে।
হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক সাইদুল ইসলাম ও সেলিম হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে আগে প্রচুর পরিমাণ চাল আমদানি হতো। এ কারণে সে সময় আমাদের কাজ-কাম ভালো হতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় আমাদের কাজ কমে গিয়ে আয় কমে যায়। আজ (গতকাল) শনিবার থেকে বন্দর দিয়ে আবারও চাল আমদানি শুরু হয়েছে, এতে করে আমাদের কাজ যেমন বাড়বে, তেমনি আমাদের আয়ও বাড়বে; যা দিয়ে দুবেলা দুমুঠো খেয়েপরে বাঁচতে পারব।
হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট আলহাজ জয়নাল আবেদিনের স্বত্বাধিকারী শেরেগুল ইসলাম বলেন, ‘আমার আমদানিকারক নওগাঁর মেসার্স জগদীশ চন্দ্র রায় খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১১২ নম্বর স্মারকমূলে ভারত থেকে ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছিলেন। এর মধ্যে আজই তিনি প্রথম তিনটি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি করেছেন। ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মারুতি ইন্টারন্যাশনাল এই চালগুলো রপ্তানি করেছে। প্রতি মেট্রিকটন চাল ৩৫৬ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে কাস্টমসে চাল ছাড়করণের প্রক্রিয়া চলছে। এটি সম্পূর্ণ হলে এসব চাল দেশের বাজারে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দেশের বাজারে চালের দাম সহনশীল পর্যায়ে আসবে।
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ ছিল, আজকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে তিন ট্রাক চাল প্রবেশের মধ্য দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। এ চাল আমদানির কারণে ইতিমধ্যেই বন্দর এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনন্দিন আয় বাড়বে, এ কারণে তারা অত্যন্ত খুশি। একই সঙ্গে চাল আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি বন্দরের দৈনন্দিন আয় বৃদ্ধি পাবে। আমদানিকৃত চাল যাবতীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে দ্রুত খালাস করে ছাড়করণ দেওয়া হয়, সেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।