সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরেকে বিভিন্ন বিষয়ে দোষ দিয়েছেন নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী এবং তার ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ভর্তি হতে গিয়েছি, বলেন চট্টগ্রামে ভর্তি হও। ঢাকায় রাজনীতি করলে আবার সেখানে কোনো বড় নেতা হয়ে যাই কী না! সত্যি বলছি। উনিই তো এগোতে দেননি। আমাদের কী কোনো অভিভাবক আছে’?
তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের আমার সঙ্গে নেই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নেই। নোয়াখালী আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। ফেনী আওয়ামী লীগ আমার বিরুদ্ধে অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নেই। পৌরসভা আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নেই। তারপর ডিসি, এসপি, নির্বাচন অফিসার আমার সঙ্গে নেই’।
এরপর তিনি আঞ্চলিক উচ্চারণে জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘আমনেরা কি আঁর লগে থাইকবেননি?’ এ সময় উপস্থিতরা উত্তর দেয়, ‘আছি’।
শনিবার নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন।
কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনারা থাকলে আমি কথা বলব। না হয় বলব না। আমি বলেছি আমি সত্য কথা বলব। এরা আমার সঙ্গে নেই কেউ। আমাদের এখানে চেহারা দেখানোর জন্য আসে। বসুরহাট কবিরহাটের এরা ওবায়দুল কাদেরকে ভয় পায়, একরাম চৌধুরীকে ভয় পায়। নিজাম হাজারীকে ভয় পায়। আপনারা সাধারণ কর্মীরা কী আমার সঙ্গে থাকবেন?’
এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারা থাকলেই আমি ভোট করব। আর না হয় বাড়িতে শুয়ে থাকব। ভোট একটা পেলে একটা। আপনারা থাকলে আমি বের হব, না হয় বেরও হব না। ভোট জনগণ দিলে দেবে না দিলে নেই। কী হবে? তিন বার ভোট করেছি না? এখন তোয়াজ করতে হবে কারো কারো? কেন্দ্রীয় নেতাদের? এগুলো কি দরকার আছে? আমার দরকার নেই। আমার ভোটের এত খায়েশ নেই। আমি সোজা কথা বলি, স্পষ্ট কথা বলি। আমি বেইমানের চেহারা একটু দেখব। তোদের ওপর আল্লাহর গজব পড়বে কেন্দ্র থেকে এখান পর্যন্ত যারা এসব করছিস। আমি ইমানদার শতভাগ। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। তোরা বেইমান। তোরা মুনাফেক। তোরা মানুষের সঙ্গে কথা বলে কথা রাখিস না। আমি ওয়াদা রক্ষা করেছি’।
কাদের মির্জা বলেন, ‘কালকে যুব মহিলা লীগের এক মহিলা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা মোবাইল ট্র্যাকিং দিয়ে সব তথ্য পেয়েছে, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তথ্য সব পাবার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তাহলে এ মহিলার হাতটা অনেক শক্তিশালী। না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কেন?’
কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘কষ্ট লাগে, কেন্দ্রীয় নেতা, আমরা ছোট খাট কর্মী, গ্রামের। প্রেসিডিয়াম সদস্য। যে আসনে তিনি ভোট করেন সেখানে ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ। সেখানে এমপি হয়েছেন। আগে মন্ত্রী ছিলেন, এখন নেই। উনি ভালো মানুষ এ জন্য মন্ত্রী হননি। আমি আর কিছু বললাম না। বললে এখন বিপদ’।
নিজের ভাইয়ের বিষয়ে বলেন, ‘আমায় একটা জায়গায় নিয়ে ঠেকায়, সেটা হলো ওবায়দুল কাদের সাহেব অসুস্থ, আমি মরে যাব। এটা বললে আমি দুর্বল হয়ে যাই। আমি অসুস্থ, আমি মরে যাব। এটা বললে আমি দুর্বল হয়ে যাই। তারপরও ওনার বোঝা উচিত, উনি জাতীয় নেতা। আল্লাহ উনাকে সম্মান দিয়েছে, আওয়ামী লীগের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক। ওনার বোঝা উচিত’।
‘আমি যখন অন্যায় অনিয়মের প্রতিবাদ করি তখন আমি পাগল’।
এ সময় তিনি তাকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘৪৭ বছর আওয়ামী লীগ করি। একদিনও কি অন্য দল করেছি? দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কথা বলেন। মাহবুবুল আলম হানিফ সাহেব আপনার কুষ্টিয়াতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল যে ভেঙেছ কী দায়িত্ব পালন করেছেন? নজরুল ইসলাম বাবু। আমার বয়সে ছোট হবে। উনি টক শোতে বলে, আমি নাকি জামায়াত-বিএনপির ভোট নিতে, আমার অবস্থা খারাপ, এখানে দলের মধ্যে দু’ভাগ’।
মির্জা কাদের বলেন, ‘ভোটের মাঠ গরম করা আর অভ্যন্তরীণ কোন্দল আছে জিততে পারবে না, সে জন্য এটা নাকি নির্বাচনী কৌশল। এমপি সাহেব, আপনি বয়সে আমার বড় নয়। হয়ে গেছেন, আল্লাহ আপনাকে দিয়েছে, আমাদের দেয়নি। আমাদের দেবে কোত্থেকে? আমাদের দেবার যিনি তিনিই তো দেননি। ওবায়দুল কাদেরই আমাদের পার হতে দেয়নি’।
সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্সকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটির নুরা পাগলার সঙ্গে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক তার সঙ্গে বের হয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোটার বিরোধিতা করেছেন, আহারে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি! আহারে বাম দল! এটা কি আপনাদের রাজনীতি! ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না। বক্তৃতা দেন। আপনারা হলেন সাইনবোর্ড সর্বস্ব দল’।
এরপর মির্জা কাদের বলেন, ‘হৃদয়ে আজীবনের জন্য একটা লোকের নাম লিখবেন, সেটা হচ্ছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। যিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। যিনি আমাদের মুক্তি দিয়ে গেছেন। যে নেতা দীর্ঘ ৩০ বছর বাঙালি জাতির জন্য সংগ্রাম করেছেন। ১৪ বছর কারাগার থেকে কারাগারে দিন কাটিয়েছেন। সে নেতা বঙ্গবন্ধুকে আমরা যদি ভুলে যাই অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত হব’।
এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।