পশ্চিমবঙ্গে একসময় প্রগতিশীল আন্দোলনের সমার্থক হয়ে উঠেছিল গ্রুপ থিয়েটার। বাম শাসনের শেষদিক থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মমতা ব্যানার্জির পরিবর্তনের ডাকে রং বদলাতে থাকে। নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, বিভাস চক্রবর্তী, অর্পিতা ঘোষ প্রমুখ সরাসরি বিরোধীদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। ব্রাত্য বসু এখন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী আর অর্পিতা ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। চন্দন সেন, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, মেঘনাদ ভট্টাচার্য প্রমুখ নাট্যকাররা বাম ধারাকে এখনো বজায় রেখেছেন।
বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগেই নানা ইস্যুতে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। সংস্কৃতি জগতেও তার ছোঁয়া লেগেছে। এর আগে টালিগঞ্জ চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে সংগঠন তৈরি হয়েছিল বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায়। এবার নাট্যকর্মীদের বড় আকারের একটি সংগঠনে অংশীদার হতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
১৭ জানুয়ারি কলকাতার যোগেশ মাইম হলে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজনে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রের শাসকশিবিরের নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ও থিয়েটারকর্মী শর্বরী মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও সাবেক সাংসদ অনুপম হাজরা।
২০১৮ সালে তৈরি একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকর্মীদের সমস্যা, নিরাপত্তা, উন্নতিসহ সার্বিক দিক নিয়ে কাজ করতে চায়। থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জেলার ৬৮৬টি দল ইতিমধ্যে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম সদস্য ‘বোড়াই ইতি থিয়েটার’-এর সৃজিত ঘোষের ব্যাখ্যা, ‘বাংলায় এ সংগঠন আরও আগে তৈরি হওয়া উচিত ছিল। বাংলা থিয়েটারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্যা। অতীতে আমরা নাট্যকর্মীদের অর্থনৈতিক ও শারীরিক সমস্যায় সহযোগিতা করেছি। লকডাউনেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এবার নিরাপত্তার জন্য নাট্যকর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই।’
তৃতীয় বিশ্বে নাট্যকর্মীদের অবস্থা নিয়ে কজন ভাবেন? লকডাউনে সব বন্ধ ছিল বলে মানুষের অনুদান এসেছে। এখন হল খুলে যাচ্ছে। মানুষ কি তেমন অনুদান দেবেন? নাট্যকর্মীদের সংসার চলবে কী করে? সমাধানই-বা কোথায়? এসব প্রশ্নই সৃজিতের মতো ‘সরস্বতী কলামন্দির’র প্রবীর মণ্ডল, ‘কালিন্দী নাট্যসৃজন’র বিল্বদল চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার মৃণালজিৎ গোস্বামীদের ভাবিয়েছে। তাহলে ১৭ জানুয়ারি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর লক্ষ্য কী? তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমি কার্যত কোনো কাজই করে না। তাই নাট্য একাডেমির দায়িত্বই পালন করবে ‘দ্য লিবারাল থিয়েটারস কনফেডারেশন’ নামের ওই সংগঠন।