কুয়াকাটায় চাঁদার দাবিতে যুবলীগ কর্মীকে মারধর

চাঁদার দাবিতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর যুবলীগের সদস্য রফিক ফরাজীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও ১৭ হাজার টাকাসহ একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদ্যসমাপ্ত কুয়াকাটা পৌরসভার নির্বাচনে বিরোধের জেরে গত রবিবার রাতে জিরো পয়েন্ট এলাকায় নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদারের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে রফিক ফরাজী অভিযোগ করেন।

হামলার শিকার রফিক ফরাজী বলেন, গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌরাস্তার মোড়ে একটি ফলের দোকানের সামনে পৌঁছালে হোসেনপাড়া এলাকার রফিক, হালিম, মতিউর, মনির, আনোয়ার, বায়েজীতসহ ৭/৮ জন তার ওপর হামলা চালায়। নবনির্বাচিত মেয়রের নির্দেশেই তার ওপর এ হামলা হয়েছে দাবি করে রফিক আরও বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে বিরোধের জেরে নবনির্বাচিত মেয়রের স্বজনরা তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। কুয়াকাটা ছেড়ে চলে যাওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে তারা। হামলার ঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলে জানান।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে উল্লেখ করে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, পৌর নির্বাচনের জের ধরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কতিপয় সুবিধাভোগী সন্ত্রাসী নবনির্বাচিত মেয়রের ইন্ধনে এসব করছে।

তার লোকজন কাউকে মারধর কিংবা চাঁদা দাবি করেনি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেটি। এটা সাজানো নাটক- এমন দাবি করে নবনির্বাচিত মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, রবিবার রাতে জিরো পয়েন্টে পুলিশ বক্সে তিনিসহ বিএনপি নেতা শাহজাহান আকন, মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পুলিশ বক্সের বাইরে থেকে রফিক তাকে গালাগাল করছিল। যার প্রত্যক্ষদর্শী ওসি নিজেই।  মহিপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় কুয়াকাটা পুলিশ বক্সে অবস্থানকালে হইচই শুনেছেন এবং লোকজনের জটলা দেখতে পেয়েছেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে জড়ো হওয়া লোকজন যে যার মতো চলে যায়। মারধর কিংবা চাঁদা দাবির বিষয়ে এ পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।