বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯ কোটি ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৮টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ কোটি ১৩ লাখ ৯১ হাজার ৮০৮। এর মধ্যে ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ছয় কোটি ৫৪ লাখ ৯ হাজার ৪২২ জন। এদিকে চীনের একাধিক শহরের গতকাল নতুন করে লাকডাউন জারি হয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। এক পর্যায়ে উৎপত্তিস্থল চীনে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। এরইমধ্যে করোনার টিকাও আবিষ্কৃত হয়েছে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৭। মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৪৯ জনের।
আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি চার লাখ ৭৯ হাজার ৯১৩। এর মধ্যে এক লাখ ৫১ হাজার ৩৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৩ জন। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৬১৭ জন।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চীনের মূল ভূখন্ডের একটা বড় অংশে লকডাউন জারি করেছে সরকার। সারা দেশে লকডাউনের আওতায় চলে গিয়েছেন ২ কোটি মানুষ।
এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবারই সরকারি বিবৃতি জারি করে ল্যাংফ্যাংয়ে লকডাউন জারি করা হয়। এমনকি শহরের প্রায় প্রতিটি পরিবারকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি করোনা পরীক্ষার জন্য গণহারে নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্টিং শুরু হবে বলেও জানা যাচ্ছে। এদিকে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার গোটা প্রদেশে ৫৫ জন নতুন করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। যা সোমবার ছিল প্রায় ১০৩।