লকডাউনে ব্রিটেনজুড়ে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা

৪ জানুয়ারি ব্রিটেনে তৃতীয়বারের মতো লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনের সন্ধান মেলার পর আক্রান্তের সংখ্যা প্রথমবারের চেয়েও কয়েক গুণ হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভাইরাস ও ব্রিটেনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে লিখেছেন মাহবুবুল আলম তারেক

ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন

করোনায় যে দেশগুলো ভয়াবহভাবে আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ব্রিটেন। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রিটেন জুড়ে প্রতি ৫০ জনের একজন যেখানে আক্রান্তের খবর সবাইকে আতঙ্কিত করছিল, সেই খবরে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে ব্রিটেনে নতুন স্ট্রেইনের খবর। ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই ভাইরাসটি এ মুহূর্তে দেশটির উদ্বেগের সবচেয়ে বড় কারণ। ভাইরাস সব সময়ই নিজেকে পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিতে থাকে। একে বলে ‘মিউটেশন’। কখনো কখনো এই নতুন রূপ নেওয়া ভাইরাস আগেরটার চেয়ে বেশি ভয়ংকর হয় বা আগের চেয়ে নিরীহও হয়ে যেতে পারে। আবার এমন কিছু মিউটেশনও হতে পারে যার আদৌ কোনো প্রভাব নেই। তবে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইংল্যান্ডের অন্তত ৬০টি জায়গায় করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেইনের সন্ধান পাওয়ায় বিজ্ঞানীদের চিন্তায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে এটি।

নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে প্রাথমিক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, জানা গেছে তাতে ভাইরাসটিতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ানক পরিবর্তন এসেছে ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে, যার মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ঘ৫০১ণ নামে চিহ্নিত একটি পরিবর্তনে স্পাইকের ওই জায়গায় রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেইন নামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর এসেছে। এর মাধ্যমেই ভাইরাসের স্পাইক মানুষের ত্বকের সঙ্গে প্রথম সংযোগ ঘটায়। যেকোনো ধরনের পরিবর্তন, যা এই ভাইরাসটিকে শরীরে সহজে প্রবেশ করতে সহায়তা করে, তা ভাইরাসটির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসটি এখন সহজেই মানবদেহে প্রবেশ করছে। আর এই পরিবর্তনটাই সংক্রমণের হার দুই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যার কারণে নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর যারা সেরে ওঠেন তাদের রক্তে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তার ভাইরাসটিকে আক্রমণ করার ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণা যা বলছে তাতে অন্তত এতটুকু এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে যে, নতুন করোনাভাইরাস এমন কোনো রোগীর দেহে তৈরি হয়েছে, যার রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। এর পরিবর্তে ওই রোগীর দেহ ভাইরাসটির পরিবর্তনের উর্বরক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিকে প্রাণঘাতী বা মারাত্মক বলা যাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও উদ্রেকের বিষয় হচ্ছে অনেক দ্রুত ও সহজে ছড়াচ্ছে ভাইরাসটি। আগেরটির তুলনায় এই নতুন করোনাভাইরাস ৭০ শতাংশ বেশি হারে ছড়াচ্ছে। হয়তো এর বৈশিষ্ট্যগুলোই এর কারণ। ভাইরাসের অন্য সংস্করণগুলোকে প্রতিস্থাপিত করা, মানুষের দেহের কোষকে যে ভাইরাস সংক্রমিত করে তার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বৈশিষ্ট্যগুলোই বেশি চিন্তার। তবে আশার কথা হলে এখন পর্যন্ত যে তিনটি ভ্যাকসিন এসেছে, তাদের সবগুলোই নতুন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটিতে যদি আরও বেশি পরিবর্তন বা বিভাজন ঘটতে দেওয়া হয়, তাহলে তখন দুশ্চিন্তা করতেই হবে।

ভাইরাসটি এমন একটি পথে রয়েছে, যেখানে হয়তো সে ভ্যাকসিন এড়িয়ে যেতে পারে। আর সেদিকেই কয়েক কদম এগিয়েছে ভাইরাসটি। আর এখন ভাইরাসটি যে অবস্থায় আছে, তাতে এ বিষয়টিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। ভাইরাসটি সম্ভবত নিজেকে এমনভাবে পরিবর্তন করবে, যাতে সে ভ্যাকসিন এড়াতে পারে। তার মানে নিয়মিতভাবে ভ্যাকসিনের পরিবর্তনও ঘটাতে হবে বিজ্ঞানীদের। সৌভাগ্যবশত করোনার যেসব ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে, সেগুলোয়ও সহজেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

ভুতুড়ে পরিস্থিতি

ইংল্যান্ডের মতো শহরে দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউন থাকার পরও ভাইরাসের দ্রুতহারে ছড়ানো এখন বেশি উদ্বেগের। জটিল পরিস্থিতি যেন এড়ানো যায় সেজন্য ৪ জানুয়ারি ব্রিটেন জুড়ে তৃতীয় দফায় নতুন লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জাতীয় পর্যায়ে লকডাউনের এই ঘোষণার পরদিন থেকেই ব্রিটেন জুড়ে নেমে এসেছে এক ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। চাকরিজীবীর বেশির ভাগই বাসায় থেকে অফিসের কাজ করছেন। মানুষের চলাচল কম থাকায় শহরগুলোর রাস্তাঘাট হয়ে পড়েছে জনশূন্য। সৃষ্টি হয়েছে এক ভুতুড়ে পরিস্থিতির। এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে গত বছরের মার্চ-এপ্রিলে ইতালির অবস্থার কথা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এই লকডাউন বহাল থাকবে। ৩১ মার্চ নাগাদ যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় এবং টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হয়, তাহলে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। যদিও লকডাউন জারির অনেক আগে থেকেই অবশ্য আমাজন, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা এখনো হোম অফিস করছেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ বেশ কয়েকটি বড় ফার্ম অনুমতি দিয়েছে বাড়ি থেকেই কাজ করার। আগামী জুন পর্যন্ত এই সুযোগ বেড়েছে আমাজনের কর্মীদেরও।

ভুতুড়ে পরিস্থিতির আরেক শিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। করোনার প্রথম আঘাত শুরুর পর বিশ্বে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অনেক দূরে সরে যায়। চালু হয় ডিজিটাল পদ্ধতি। ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় যদিও চালু ছিল স্কুল। তবে এবার তিন দফায় লকডাউন শুরু হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়া যে পরিকল্পনামতো হবে না সে বিষয়েও তাদের জানানো হয়েছে। নতুন ভাইরাসের সন্ধান এবং একের পর এক মানুষের আক্রান্তের খবর ইংল্যান্ড জুড়ে উদ্বেগ ছড়ালেও তার মধ্যেই বরিস জনসন বলেছিলেন স্কুল খোলা রাখতে। তার এই সিদ্ধান্তে ব্রিটেনের শিক্ষক-অভিভাবকদের একটা বড় অংশ বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিবাদ করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণায় স্কুলও বন্ধ হলো।

গত মার্চে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় কোনো জরুরি কারণ ছাড়া নাগরিকরা ঘর থেকে বের হতে পারবেন না এমন নির্দেশনা দিয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন ঘোষণায়ও একই কঠোরতা থাকবে। নিয়মভঙ্গকারীকে মোটা অঙ্কের অর্থ জরিমানা করা হবে। জরিমানার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২০০ পাউন্ড থেকে শুরু করে ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নির্ধারণ করে হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে

নতুন ধরনের কভিড-১৯ ভাইরাসের আক্রমণে ব্রিটেনের করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই। ২০ ডিসেম্বর ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকক স্বীকার করেন যে, দেশের করোনা পরিস্থিতি অবিশ্বাস্য রকমের কঠিনপর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। একই দিন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করে, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি এলাকায় নতুন ধরনের একটি করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এই নতুন ভাইরাস আগের থেকে ৭০ শতাংশ বেশি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের দেহে। আসলে গত সেপ্টেম্বরেই ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের এই নতুন ধরনটি প্রথম শনাক্ত করা হয়। নভেম্বরের দিকে লন্ডনে আক্রান্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ ছিল নতুন বৈশিষ্ট্যের এই ভাইরাসের শিকার। আর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছায়। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ২০ ডিসেম্বর থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড এবং লন্ডনে নতুন করে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও বড়দিনের আগে এই লকডাউনের ফলে ছুটির আনন্দ মাটি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন আমজনতা থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতারা। ইংল্যান্ডে সংক্রমণের গতি বাড়ায় সতর্কতা বাড়ানো হয় স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে। ইংল্যান্ডের নাগরিকদের স্কটল্যান্ডে ঢোকা নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের মতোই ওয়েলসেও ফের লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বড়দিনের আগেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড এবং লন্ডনে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ‘টিয়ার ফোর’ বা চার মাত্রায় উন্নীত করা হয় এবং ওই অঞ্চলে পুরোপুরি লকডাউন শুরু হয়ে যায়।

২৪ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক ফের জানান, দেশটিতে আরও একটি নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যাতে দুজন আক্রান্ত হয়েছেন। লন্ডন ও উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ভাইরাসটির এই নতুন বৈশিষ্ট্য দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ধরা পড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ভাইরাসটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোয়াইলি ম্যাখিজে সতর্ক করে বলেন, ‘তরুণ এবং আগে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এইডস মহামারীর শুরুর দিকে যে অবস্থা আমরা পার করেছি, সেই একই অবস্থা এবার আবার পার করা কঠিন হবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা দ্বিতীয় নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাসে গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারির মধ্যে শুধু ইংল্যান্ডেই ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চাপে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলো হিমশিম খেতে শুরু করে ডিসেম্বরের শেষ দিনগুলো থেকেই। ডিসেম্বরের শেষদিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিশ্বজিৎ রায় বলেছিলেন, ‘আমি আমার চাকরি জীবনে হাসপাতালে রোগীর এমন চাপ এর আগে আর কখনো দেখিনি। আমার হাসপাতালে বেড অনুযায়ী রোগী নেওয়া হয়। কিন্তু বেড সব পূর্ণ হয়ে এখন অন্য জায়গা যেমন ওয়েটিং এরিয়া, করিডরসহ সব খালি জায়গা রোগীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে যে কাকে রেখে কাকে চিকিৎসা দেব। যেসব জায়গায় রোগী রাখা যায় সব জায়গায় রোগী রাখার পরেও বাইরে রোগী অপেক্ষা করছিল। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি পরিস্থিতি এমন হবে।’

৩ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য জুড়ে প্রথমবারের মতো এক দিনে ৬০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। গত বছর করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটেনে এক দিনে এত বেশি মানুষের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর এটাই প্রথম। আর এদিন মারা গেছে ৮৩০ জন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ। যুক্তরাজ্যে এর আগে আর কখনো দিনে সাত হাজারের বেশি মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগে কখনো এত বেশি হারে টেস্টও করা হয়নি। অনেকের ধারণা, গত বছরের মার্চ মাসের শেষদিকে প্রতিদিন বাস্তবে প্রায় এক লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় পরীক্ষার অভাবে তা ধরা পড়েনি। ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোর ১০টি বেডের ৩টিই এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের দখলে। কোনো কোনো হাসপাতালে আবার ১০টি বেডের মধ্যে ৬টিরও বেশি বেড করোনা রোগীদের দখলে চলে গেছে। ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর সংখ্যা প্রথম ঢেউয়ের শীর্ষ সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি হয়ে গেছে। গত বছরের ১২ এপ্রিল ব্রিটেন জুড়ে হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ২১,৬৮৪ জন, আর এখন রয়েছে ৩০ হাজার ৭৪ জন।

ব্রিটেন জুড়ে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ চলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। অথচ ইতিমধ্যেই হাসপাতালগুলো রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অবস্থা যখন এতটা সংকটময়, তখন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ ব্রিটেন জুড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর প্রতি সপ্তাহে ২০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। পরিকল্পনামতো কাজ এগোলে, ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় টিকাদান কর্মসূচি হতে যাচ্ছে এটি। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের ১১ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আর যুক্তরাজ্য জুড়ে টিকা পেয়েছে ১৩ লাখ মানুষ।