৭২ ঘণ্টা আগেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ জয়ের উৎসব করে গেছে বসুন্ধরা কিংস। এরপর রিকভারির খুব বেশি সুযোগ মেলেনি। গতকাল তাদের নেমে পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ম্যাচের ধকল ভালোভাবেই কাটিয়ে কিংস শুরু করেছে জয় দিয়ে। ২-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারাকে। দু’অর্ধে দলের হয়ে গোল করেছেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল অস্কার বেসেরা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
১১ মাস আগে ২০২০-র ১৩ ফেব্রুয়ারি আগের মৌসুমের বিপিএলেও বারিধারাকে হারিয়ে (১-০) শুরু করেছিল কিংস। ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের ষষ্ঠ ম্যাচের পর করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় লিগ। দেশের ফুটবলে নেমে আসে স্থবিরতা। ডিসেম্বরে ফেডারেশন কাপ দিয়ে সেই অচলাবস্থা কাটে। আর মৌসুম সূচনাকারী আসরের ফাইনালের দু’দিন পরেই শুরু হয়ে গেল প্রিমিয়ার লিগের ১৩তম আসর।
রিকভারির সুযোগ কম থাকলেও গতকাল কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন সেরা একাদশকেই মাঠে নামিয়েছিল। শুরু থেকেই সহজাত আক্রমণাত্মক ঢংয়ে খেলেছে কিংস। ১৭ মিনিটেই গোল পেতে পারত দলটি। কিন্তু রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষের ক্রসে আর্জেন্টাইন বেসেরার হেড পোস্টে লাগলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় বারিধারা। ৩৫ মিনিটে অবশ্য বারিধারার দুর্বল ডিফেন্সের সুযোগে লিগে গোলের খাতা খোলেন বেসেরা। ডান দিক থেকে বিশ্বনাথের ক্রস হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোল মুখে ফেলেন উজবেক ডিফেন্ডার সাইদস্তন ফজিলভ। তাতে বেসেরার হেড কোনো সুযোগ দেয়নি বারিধারা কিপার মামুন আলিফকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রবসনের থ্রু ধরে বক্সে ঢুকে কিপারের হাতে বল তুলে দেন ইব্রাহিম। পরের মুহূর্তে মোস্তফা আব্দেল খালেকের কাট ব্যাকে সুমন রেজার এলোমেলো শট সহজেই হেড করে ক্লিয়ার করেন কিংস ডিফেন্ডার তপু বর্মন। ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইব্রাহিম। রাউল দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে অসাধারণ থ্রু বাড়ান। সেটা ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় বারিধারার কিপার মামুন আলিফের ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান জাতীয় দলের এই উইঙ্গার। এই গোলের পর ব্রুজন পাঁচজন স্থানীয়কে তুলে নিয়ে ঝালিয়ে নেন রিজার্ভ বেঞ্চের পাঁচজনকে। তারা অবশ্য খেলার গতিতে সেভাবে পরিবর্তন আনতে পারেননি। যদিও শেষ বাঁশি বাজার দুই মিনিট আগে বদলি মিডফিল্ডার ইমন বাবু অসাধারণ ক্রস ফেলেছিলেন রাউলের উদ্দেশে। কিন্তু বারিধারা কিপার মামুন এই আর্জেন্টাইনকে দ্বিতীয় গোল করতে দেননি। যোগ করা সময়ে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার রবসন রবিনহোর প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন বারিধারার উজবেক মিডফিল্ডার এভগেনি কোচনেভ। আর তপু বর্মন সুমন রেজার শট ঠেকিয়ে দিলে সান্ত¡নার গোলও পাওয়া হয়নি বারিধারার।
ফাইনালের স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়ের দু’দিন পর ম্যাচটা মোটেই সহজ ছিল না, বললেন অস্কার ব্রুজন, ‘প্রথম ৩০ মিনিট খুব কঠিন ছিল আমাদের জন্য। তবে প্রথম গোল করার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। দুটি কঠিন ম্যাচ খেলার পর এই ম্যাচে একই ধারায় খেলায় খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ হার দিয়ে শুরু হলেও বারিধারার কোচ শেখ জাহিদুর রহমান মিলন খুশি দলের পারফরমেন্সে, ‘আমরা খুব কম সময় পেয়েছি প্রস্তুতির। তারপরও দল ভালো খেলেছে। বেশ কিছু সুযোগও পেয়েছিল। কিংসের মতো দলকে ভালো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু আছে। আশা করছি সামনের ম্যাচগুলোতে দল আরও ভালো ফুটবল খেলবে।’