সাজিয়ে তুলুন ঘরের দেয়াল

গৃহসজ্জায় দেয়াল খুব গুরুত্বপূর্ণ। নানাভাবে ঘরের দেয়াল সাজানো যায়। একটু যত্ন করে দেয়াল সাজালে ঘরের রূপ পালটে যায়। দেয়াল সাজানোর পরামর্শ দিলেন ক্রিয়েশন্সের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার রেবতী সাহা

ঘরে আভিজাত্য আর রঙের খেলা একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে গ্যালারি ওয়ালের বিকল্প নেই। দেয়ালে পরপর বা অ্যাবস্ট্রাক্টভাবে সাজিয়ে দিন ফ্রেমবন্দি আর্ট বা পারিবারিক ফটো। লাগাতে পারেন ওয়াল হ্যাঙ্গিংও। ফ্রেমের নকশা ও ছবিগুলো দ্যুতি ছড়াবে। ছবিতে রাখুন নানা রকম বৈচিত্র্য। গ্যালারি দেয়াল থেকে শুরু করে সিলিংয়ে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এর ফলে নতুনত্ব যেমন খুঁজে পাবেন, তেমনি ঘর বড়ও লাগবে দেখতে।

বাড়ির গাছ টবেই রাখতে হবে এমন নয়। দেয়ালে সাজিয়ে রাখতে পারেন নানা ধরনের গাছ। বাড়িতে সবুজের ছোঁয়া ও প্রশান্তি এনে দিতে পারে দেয়ালের গায়ে ওয়াল-মাউন্টেড গাছ। এ ক্ষেত্রে আসল গাছও যেমন লাগাতে পারেন, তেমনি সিনথেটিক ওয়াল প্ল্যান্টার্সও পাওয়া যায়। তবে দেয়াল যথেষ্ট আলো-বাতাস পেলে নিঃসন্দেহে আসল গাছই ভালো হবে।

দেয়াল সাজাতে পারেন ফ্লোটিং শেলফ দিয়ে। ঘর দেখতেও অন্যরকম লাগবে আর মেঝের জায়গাও বাঁচবে। তবে ঝোলানো তাক বেছে নেওয়ার সময় অবশ্যই শেলফের ডিজাইনের দিকে গুরুত্ব দিন। শেলফের শেপ, প্যাটার্ন, টেক্সচার, মাপ সবকিছু নিয়েই। বই, পুরনো ক্যাসেট, সাজানোর জিনিসসহ যেকোনো কিছুই রাখতে পারেন। তবে অনেক জিনিসের আধিক্য যেন না হয়।

ছবি, ওয়াল হ্যাঙ্গিং সব বাদ দিয়ে যদি দেয়াল ব্যতিক্রম কিছু দিয়ে সাজাতে চাইলে সাজাতে পারেন প্লেট দিয়ে। কাচ বা চীনামাটির সুন্দর কারুকার্য করা প্লেট দোকানে যেমন পাবেন, তেমনি বাড়িতেও পেতে পারেন। ছোট-বড় এমন নানা ডিজাইন করা তারের প্লেট হ্যাঙ্গার দিয়ে দেয়ালে টাঙিয়ে দিন।

অনেক পুরনো দেয়ালের সাজ হলো ট্যাপেস্ট্রি, যা আবার নতুন করে ফিরে এসেছে। দেয়ালে লাগানো কার্পেট বা কাপড়ের ওয়াল হ্যাঙ্গিং লাগাতে পারেন। ফ্যাব্রিক হতে পারে দেয়াল-জোড়া বা ছোট ছোট ফ্রেমে। বাড়িতে বহুদিন থেকে রাখা পুরনো বেনারসি, কাতান শাড়ি, স্কার্ফ বা পুরনো শাড়ির পাড় ফ্রেমে বাঁধিয়েও লাগাতে পারেন।

আয়না যেহেতু আলো প্রতিফলিত করে বলে যেকোনো ছোট জায়গাও বড় আর উজ্জ্বল লাগে। দেয়াল জুড়ে লাগাতে পারেন বড় একটা আয়না। ছোট আকারের নানা রকমের আয়নাও বেশ অভিনব লাগবে দেখতে। আধুনিক সাজসজ্জায় এটাও জনপ্রিয়।