প্রসবজনিত ফিস্টুলা

মায়ের পেলভিসের হাড় ও বাচ্চার মাথার মধ্যে সমতা না থাকে অর্থাৎ মায়ের পেলভিসের তুলনায় বাচ্চার মাথা যদি বড় থাকে অথবা পেলভিস প্রয়োজনের তুলনায় ছোট থাকে, তাহলে প্রসব বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বাচ্চা দীর্ঘক্ষণ (১-৩ দিন) প্রসবের রাস্তায় আটকে থাকলে এবং যদি বাচ্চা যথাসময়ে বের না হয় তাহলে মায়ের পেলভিসের (শ্রোণিচক্রের) হাড় ও বাচ্চার মাথার মধ্যে মূত্রথলি দীর্ঘক্ষণ চাপে থাকার ফলে প্রসবজনিত ফিস্টুলা হতে পারে।

কারণ

সাধারণত প্রসবের সাত থেকে আট দিন পর থেকেই প্রস্রাব ঝরা শুরু হয়। অল্প বয়সে বিয়ে, বিয়ের পরপরই গর্ভধারণ, নিয়মিত চেকআপে না থাকা, বিলম্বিত প্রসব হয়ে বাচ্চার মাথা অনেকক্ষণ আটকে থাকা, অদক্ষ ধাত্রী দিয়ে ডেলিভারি করানো, সময়মতো হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা না নেওয়া ইত্যাদি প্রসবজনিত ফিস্টুলার অন্যতম কারণ।

লক্ষণ

প্রস্রাব, পায়খানা ও পুঁজ যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া। দুর্গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব হওয়া। যোনিপথের এবং প্রস্রাবের রাস্তায় (Urinary tract)-এ বারবার সংক্রমণ হওয়া। শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় ব্যথা অনুভব করা। ঘন ঘন পায়খানা হওয়া এবং পায়খানা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়া। পায়ুপথের ভেতরের গ্রন্থিতে সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পাশে ফুলে ওঠে ও ব্যথা হয়। সংক্রমণ যদি মলদ্বারের গভীরে প্রবেশ করে তখন ফোলা থাকে না। কিন্তু প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বর হতে পারে। এভাবে বারবার চলতে থাকে। এক্ষেত্রে মলদ্বারের দূরে (আধা ইঞ্চি থেকে চার ইঞ্চি) একটি ছোট মুখ থাকে যা দিয়ে পুঁজ ও রক্ত বের হয়। কারও কারও এ মুখটি এত ছোট যে দেখা যায় না। তারা বলেন যে, মলদ্বারে একটু ভেজা ভেজা লাগে বা আঠালো পদার্থ বের হয়।

প্রতিকার

গর্ভধারণের অথবা সন্তান জন্মদানের ইতিহাস জানা। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। যোনিপথ, মলদ্বার ও পায়ুপথ পরীক্ষা। মলদ্বার এবং পায়ুপথের এনোরেক্টাল আল্ট্রাসাউন্ড করা। কনট্রাস্ট টেস্ট যেমন- ভ্যাজাইনোগ্রাম, বারিয়াম পরীক্ষা পেটের এবং শ্রেণির কম্পিউটারাইজড ফটোগ্রাফি। শরীরের নরম কোষের ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমেজিং করে চিকিৎসা করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার করে ফিস্টুলা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব।

প্রস্রাব-পায়খানার পর ভালোমতো গরম পানি সাবান দিয়ে পায়ুপথ পরিষ্কার করা। ধোয়ার পর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছতে হবে।

জ্বালাপোড়া হতে পারে এমন প্রসাধন/সাবান ব্যবহার না করা।

ঢিলেঢালা পোশাক এবং সুতির অন্তর্বাস পরা। এছাড়া ফিস্টুলা দূর করতে প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রসবকালে সব নারীর পাশে দক্ষ সেবাদানকারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রসবজনিত জটিলতায় জরুরি সেবা দেওয়ার মাধ্যমে ফিস্টুলা নির্মূল করা যায়।