মেসওয়াকের উপকারিতা

দাঁতের যত্নে ঔষধি গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা সুন্নত। এ বিষয়ে ৪০টির মতো হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের যদি কষ্ট না হতো, তাহলে আমি প্রতি নামাজের সময় তাদের মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।’ (সহিহ্ বুখারি, হাদিস: ৮৩৮)

পবিত্রতার পাশাপাশি মেসওয়াক আল্লাহর সন্তুষ্টিরও মাধ্যম। রাসুল (সা.) মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তেও মেসওয়াক করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘মেসওয়াক মুখ পরিষ্কার করার উপকরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (মিশকাত, হাদিস: ৩৫০)

অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘যখনই জিবরাইল (আ.) আমার কাছে আসতেন, তখনই আমাকে মেসওয়াকের নির্দেশ দিতেন। এতে আমি আশঙ্কাবোধ করলাম যে (মেসওয়াক করে) আমি আমার মুখের সামনের দিকের দাঁত ক্ষয় করে ফেলব।’ (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ২২২৬৯)

হাদিস ও বিজ্ঞানের আলোকে মেসওয়াকের কয়েকটি উপকারিতা এখানে তুলে ধরছি।

পার্থিব উপকারিতা : ১. মেসওয়াক করলে মস্তিষ্ক সজীব হয়। ২. দাঁত জীবাণুমুক্ত হয়। ৩. দাঁতের ক্যালসিয়াম পূরণ হয়। ৪. দারিদ্র্য দূর হয় এবং পরিবারে সচ্ছলতা আসে। ৫. পাকস্থলী রোগমুক্ত হয়। ৬. শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। ৭. মনে প্রফুল্লতা আসে। ৮. স্মৃতিশক্তি বাড়ে। ৯. হৃদয় পরিচ্ছন্ন হয়। ১০. চেহারার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। ১১. দাঁতের মাড়ি শক্ত হয়। ১২. মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।

পরকালীন উপকারিতা : ১. ফেরেশতারা মেসওয়াককারীর সঙ্গে মুসাফাহা করেন। ২. আরশ বহনকারী ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ৩. বিজলির গতিতে পুলসিরাত পার হবে মেসওয়াককারী। ৪. আমলনামা ডান হাতে পাবে। ৫. ইবাদতে আনন্দ পাবে। ৬. মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব হবে। ৭. জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। ৮. জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ৯. গুনাহমুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে। ১০. আল্লাহতায়ালা সন্তুষ্ট হবেন। ১১. ইবাদতে ৭০ গুণ সওয়াব পাবে।