নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ছানোয়ার হোসেন মোল্যা (৭০) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কমপ্লেক্স চত্বরে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
চন্ডিবরপুর ইউনিয়নবাসী ও আলীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আলীগঞ্জ বাজার থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি স্থানীয় সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি যাদুঘর ও পাঠাগার চত্বরে শেষ হয়।
এ সময় কয়েকশত নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূইয়া, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, চন্ডিবরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, নিহতের ছেলে মাহাবুর রহমান মোল্যা, শিক্ষক নেতা মো. কামরুজ্জামান, সমাজ সেবক মো. নবীর হোসেন, শাহাদত হোসেন সাবু প্রমুখ।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের ভুমুরদিয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেন মোল্যা ৯নং ওয়ার্ড থেকে তিনবার সদস্য নির্বাচিত হন।
গত ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার তিনি চালিতাতলা-কমলাপুর সড়ক দিয়ে নড়াইল শহরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বোড়াবাদুরিয়া এলাকায় পৌঁছালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্রকরে আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের ৭/৮জন সন্ত্রাসী ছানোয়ার মোল্যার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে খাতুনসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে বেপরোয়াভাবে মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মুমূর্ষু অবস্থায় ছানোয়ার মোল্যাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে গত ১৪ জানুয়ারি সকালে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য মাহাবুর মোল্যা বাদী হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা করেন।
নড়াইল সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, আসামিরা পলাতক থাকার কারণে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর চেষ্টা চলছে।