ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক কাশীনাথ রায় মারা গেছেন। গতকাল রবিবার ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। কাশীনাথ রায়ের একমাত্র ছেলে ড. অপ্রতিম রায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করছেন।
চার সপ্তাহ ধরে কিডনি জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কাশীনাথ রায়। দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন কাশীনাথ রায়ের ছাত্র গোলাম ফারুক খান। তিনি বলেন, ‘স্যার তো বেশ কিছুদিন ধরেই কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে স্যারের চিকিৎসা প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছিল। তবে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ পাওয়া যায়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ড. মোহাম্মদ সামাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাশীনাথ রায় একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষ। কবিতা লিখতেন। কবি বেলাল চৌধুরীকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে কবিতা নিয়ে তার কথা শুনেছি। কাশীনাথ রায়ের মৃত্যুর খবরটি জানার পর মনটা খারাপ হয়ে গেল। একজন গুণী মানুষের চলে যাওয়া।’
কাশীনাথ রায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে বলা হয়েছে, ‘অধ্যাপক কাশীনাথ রায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক ও গবেষক। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী ও সজ্জন চরিত্রের অধিকারী। তার চলন, বলন ও কথনে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের ছাপ ছিল। সাহিত্যের দর্শনচর্চায় তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। ইংরেজি সাহিত্যের চর্চা, প্রসার ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য গুণী এই অধ্যাপক স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’
কাশীনাথ রায়ের জন্ম ১৯৪৭ সালে নাটোরে। পড়াশোনা করেছেন পাবনা জেলা স্কুল, এডওয়ার্ড কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। শিক্ষকতা জীবনের শুরুর দিকে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে অবসরে যান। তবে অবসরে যাওয়ার পর তিনি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ডিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিভৃতচারী কাশীনাথ রায় বসবাস করতেন সাভারের নিজ বাড়িতে।