বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ৫০ বছরে আওয়ামী লীগের সফলতা হলো তারা জনগণের সব অধিকারকে কেড়ে নিয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে আওয়ামী লীগের সফলতা হচ্ছে যে, আজকে তারা জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা মানুষকে সত্যিকার অর্থে শৃঙ্খলিত করেছে, বন্দি করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমার আহ্বান, আপনারা সবাই এখনো নিশ্চুপ না থেকে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমরা ঐক্যবদ্ধ করি। এই যে ভয়াবহ দানব আমাদের বুকের ওপর চেপে বসেছে, সেই দানবকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আমরা প্রতিষ্ঠা করি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষগুলো পাবে কি-না তারও কোনো রোডম্যাপ নেই, কোনো প্ল্যানিং নেই। বলছে, আগে ২০ লাখ আসবে। এই ২০ লাখ কারা পাবে সেটাও আমরা জানি না। প্রতি মাসে নাকি ৫০ লাখ করে আসবে, সেটা কারা পাবে তাও জানি না। আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা কখন পাব না পাব, তার কোনো নিশ্চয়তা এখানে নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই করোনা নিয়েও এরা চুরি করছে, ডাকাতি করছে, লুটপাট করছে। প্রথম দিকে করল করোনা টেস্ট নিয়ে। ওই টেস্ট নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতাল, ডা. সাবরিনাসহ কে কে আসল... এসে তারা লুটপাট করল।’
‘জিয়াউর রহমান জীবনের প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন’ এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মই হয়েছে নেতা হয়ে। তিনি আমাদেরকে একটা আলাদা ভূখন্ড, একটা আলাদা জাতিসত্তা ও আমাদেরকে একটা পরিচিতি দিয়েছিলেন। আমরা শুধু বাঙালি নই, আমরা শুধু মারমা নই, আমরা চাকমা নই, অবাঙালি নই, বিহারি নই, আমরা ভারতীয় নই, আমরা হলাম বাংলাদেশি।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে সেখানে জিয়াউর রহমান সফল হয়েছেন। যেখানে আওয়ামী ব্যর্থ হয়েছে সেখানে জিয়াউর রহমান একটা নতুন স্বপ্ন মানুষকে দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার পর মানুষকে আওয়ামী লীগ বিভক্ত করেছিল। সেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন, অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং একটা উন্নত-সম্মৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। এ কারণে তারা জিয়ার নাম মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু জনগণের মন থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী বিথীকা বিনতে হোসেইন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসীন আলী প্রমুখ।