আ.লীগ নেতাকে সম্মাননা: সমাজসেবার সেই উপপরিচালক বদলি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলমকে সম্মাননা দেওয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদুল হাসান তাপসকে বদলি করা হয়েছে। গত বুধবার তাকে বরগুনা জেলায় বদলি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এর আগে শাহ আলমকে সম্মাননা প্রদানে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়টির সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি চিঠি পাঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক। ওই চিঠিতে শাহ আলমকে সম্মাননা প্রদানে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জানা যায়, করোনার দুর্যোগকালে গরিব-অসহায়দের জন্য সরকারের দেওয়া ওএমএস কার্ডের তালিকায় স্ত্রী-সন্তানসহ ১৩ স্বজনের নাম ওঠানোর ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহ আলম। ২ জানুয়ারি সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে সম্মাননা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক তাপস।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে সমালোচনা শুরু হয়। কোন প্রক্রিয়ায় সম্মাননার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ৩ জানুয়ারি তাপসকে একটি চিঠি দেন জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান। কিন্তু তাপসের দেওয়া লিখিত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় শাহ আলমকে সম্মাননা প্রদানে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠি পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে করোনাকালে সরকারের দেওয়া বিশেষ ওএমএস সুবিধার তালিকা প্রণয়নে হস্তক্ষেপ করেন আওয়ামী লীগ নেতা ও শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলার মো. শাহ আলম। তালিকায় ভিক্ষুক, ভবঘুরে, সাধারণ শ্রমিক, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, পরিবহনশ্রমিক, চায়ের দোকানদার, হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বদলে স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের স্বজনদের নাম উঠান তিনি।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তদন্তের পর তালিকায় শাহ আলমের ওই ১৩ স্বজনের নাম পায় জেলা প্রশাসন। এর পরপরই শাহ আলমের কাছে তার ডিলারশিপ কেন বাতিল করা হবে না মর্মে ১১ মে একটি ব্যাখ্যা তলব করেন জেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা। কিন্তু এর জবাব যথাযথ না হওয়ায় ১৩ মে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।