হোয়াইটওয়াশের সঙ্গে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট

এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার ছাড়াই বাংলাদেশে আসা তারুণ্য নির্ভর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল হোয়াইটওয়াশ হলো ওয়ানডে সিরিজে।

সোমবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১২০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দল। তাতে ৩-০ তে সিরিজ নিশ্চিত হয় টাইগারদের।

সিরিজটি দিয়েই ওয়ানডে সুপার লিগে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ তিন ম্যাচ থেকে পেল পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট শূন্য।

এ নিয়ে উইন্ডিজকে দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের মাটিতেই তাদের ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা।

আর সব মিলিয়ে মোট ১৩তম বার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার আনন্দ উদ্‌যাপন করল লাল-সবুজের দল।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে চার সিনিয়র ক্রিকেটারের ফিফটিতে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ৪৪.২ ওভারে ১৭৭ রানে গুটিয়ে যায় ক্যারিবীয়দের ইনিংস।

মিরপুরে প্রথম দুই ম্যাচই বাংলাদেশ জিতেছিল রান তাড়া করে। দারুণ বোলিংয়ে দুই ম্যাচেই উইন্ডিজকে গুটিয়ে দেয় দেড় শর আগে। প্রথম ম্যাচ ৬ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটের জয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় সিরিজ।

সিরিজ নিশ্চিত হলেও ওয়ানডে সুপার লিগের ম্যাচ হওয়ায় বাংলাদেশের এদিন পাওয়ার ছিল অনেক কিছুই। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল ১০ পয়েন্ট আদায় করা। কারণ ২০২৩ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ভারত বাদে ওয়ানডে সুপার লিগ থেকেই শীর্ষে থাকা সাত দল সুযোগ পারে সরাসরি খেলার। প্রতিটি ম্যাচ পয়েন্টই তাই গুরুত্বপূর্ণ।

সেই সঙ্গে ব্যাটসম্যানরাও এদিন নিজেদের পরখ করে নেওয়া সুযোগ পেলেন। প্রথম দুই ম্যাচে লক্ষ্য বড় না হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষাটা ছিল সহজ। এদিন চট্টগ্রামের উইকেটে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ব্যাটসম্যানরা লেটার মার্কসই পেলেন বলতে হবে।

অধিনায়ক তামিম ইকবাল ৮০ বলে ৬৪, মুশফিকুর রহিম ৫৫ বলে ৬৪, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪৩ বলে অপরাজিত ৬৪ ও সাকিব আল হাসান ৮১ বলে ৫১ রান করেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইন্ডিজ শুরু থেকেই ছিল পথ হারা। মোস্তাফিজুর রহমানের জোড়া আঘাতে ৩০ রানে ২ উইকেট হারানো। এরপর সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজরা উইকেট উৎসবে যোগ দিলে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশের মালা পড়তে হয়।

উইন্ডিজের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন রোভম্যান পাওয়েল। ৩১ রান আসে এনক্রুমা বনার ব্যাট থেকে।

সাইফউদ্দিন সর্বাধিক ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে দলে ফিরে তাসকিন আহমেদ নেন ১ উইকেট। সৌম্য সরকারের শিকার ১ উইকেট।

ম্যাচসেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। আর সিরিজ সেরা সাকিব আল হাসান। নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির পর প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজেই সেরা খেলোয়াড় সাকিব। এদিন যিনি বোলিংয়ের সময় চোট নিয়ে মাঠ ছেড়ে যান।

আরো পড়ুন:

ব্যাটিংয়ে শক্তি দেখালেন ৪ সিনিয়র

কুঁচকির অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন সাকিব