১৯৭০ ও ৮০ এর দশকে অনেক স্মরণীয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন আমজাদ হোসেন। বিদেশের একাধিক উৎসবে তিনি সম্মানিত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে উদ্দেশ করে লিখলেন ছেলে নাট্য নির্মার্তা ও অভিনেতা সাজ্জাদ হোসেন দোদুল।
মস্কোর চলচ্চিত্র উৎসবে তোলা আমজাদ হোসেন ও ববিতার একটি ছবি সোমবার ফেইসবুকে শেয়ার করেন দোদুল। সঙ্গে যোগ করেন দীর্ঘ লেখা।
তিনি লেখেন, “১৯৭৮ [সালের] ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ আমজাদ হোসেন চলচ্চিত্র দুই মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যায় ১৯৭৯ [সালে]। (যদিও এর আগে বাবা অনেক ছবি পরচালনা করেছে। নাম্বার শুধু তখন থেকে যখন থেকে বাবা নিজেস্ব ধারা তৈরি করতে শুরু করলেন)। মস্কোতে ফিরে দেখা এক মুহূর্ত বাবা আমজাদ হোসেন ও ববিতা আন্টি। মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ রোড উইথআউট এন্ড ইংরেজি নামে নমিনেটেড হয়। বাংলাদেশে ইংরেজি নাম ছিল দ্য এন্ডলেস ট্রেন। বাবার ওপর রাশিয়ান সরকার সরকারিভাবে ডুকুমেন্টারি তৈরি করে।”
“রাশিয়ান নেভি বাবাকে লাল গালিচা সম্ভর্ধনা দিয়ে রিভার ক্রুজে নিয়ে যান। মধ্য সাগরে নিয়ে গুলি ফুটিয়ে আতশবাজি উড়িয়ে বাবাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান বোর্ড স্যালুট দেয় রাশিয়ান নেভি। সে সময় বাবাকে রাশিয়ান মহিলা কালচারাল অর্গানাইজেশন ও জার্নালিস্ট ফোরাম থেকেও পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংগঠন বাবাকে পুরস্কৃত করেন। সংবর্ধনা দেন। কান (ফরাসি) কার্লোভেরি, তাসখন্দ, জার্মান ও ভারতের কথা শিশির মঞ্চের কথা। দ্বীখন্ডিতার কথা। আরও অনেক কথা দেশবিদেশের অনেক ইতিহাস ধীরে ধীরে বলবো। বাবা তোমাকে স্যালুট...।”
এর পর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে নিজের উপলব্ধির কথা জানান দোদুল, “এক জনমে তুমি যা পেরেছ শতাব্দিতেও অন্য করো পক্ষে প্রায় অসম্ভব। একজন আমজাদ হোসেন বছরে বছরে, যুগে যুগে জন্ম হয় না। শতাব্দিতে হয়তো একজন আমজাদ হোসেনের জন্ম হয়। তোমার মতো বাবার সন্তান হওয়ায় গর্ব বোধ করি। আগে বিচ্ছিন্নভাবে তোমার পথে হাঁটতে চেয়েছি। কিন্তু আমার সে পথ ছিল ভুল। দৃঢ় সংকল্প বেধেছি নিজের সাথে নিজে। বাবা আর ভুল নয়। আবেগে আর পথ চলা নয়। প্রতিটিন পদক্ষেপে মিলবে তোমার স্পর্শ। আমি তোমার চেয়ে বড় হতে চাই। আমি তৈরি। চলছে আমার কলম নামের শানিত তরবারি। মস্তিস্ক ছুটছে বিরামহীন। নিদ্রাহীন।”
বর্তমানে দোদুল নির্মিত একটি ধারাবাহিক প্রদর্শিত হচ্ছে টেলিভিশনে। আর নতুন উপলব্ধি বলছে, সামনে তাকে আরও ভিন্নভাবে পাওয়া যাবে।