শরীরে যত রোগ হয় এর মধ্যে মুখগহ্বরের রোগ সবচেয়ে বেশি। মুখের যতেœ সচেতন থাকলে রোগের সিংহভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য নিয়ম মেনে দাঁত পরিষ্কার, স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
দাঁত পরিষ্কার : দাঁতকে সাদা করার জন্য কয়লা, ছাই বা বাজারের নানা রাসায়নিক পদার্থ যেমন দাঁতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তেমনি শক্ত ব্রাশ বা অধিক সময় ব্রাশেও দাঁতের প্রতিরক্ষা আবারণকে নষ্ট করে। প্রতিদিন সকালে নাশতা ও রাতে খাবার পর দুই মিনিট ধরে দাঁতের সব পৃষ্ঠ পরিষ্কার করার জন্য যথেষ্ট।
ব্রাশ নির্বাচন : ব্রাশের মাথা গোলাকার, ব্রিসল ছোট ও নরম আর ধরার স্থানটি সহজ হতে হবে। ব্রিসল সর্বোচ্চ এক ইঞ্চি লম্বা ও অর্ধ ইঞ্চি পাশ বা প্রস্থ হলে সুবিধা। তিন থেকে চার মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তন করা ভালো। ব্রাশ নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে, যাতে পোকামাকড় বা নোংরা কিছু না লাগে। টয়লেটের স্থান থেকে কমপক্ষে সাত ফুট দূরে ব্রাশ রাখতে হবে আর প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে গরম পানি দিয়ে ব্রাশ ধুয়ে রাখা ভালো।
টুথ পেস্টের বিষয়ে ফ্লোরাইডযুক্ত পেস্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে। কারণ এই উপাদান দাঁতক্ষয় প্রতিরোধ ও মজবুত করে, পেস্টের মধ্যে অমসৃণ বা দানাযুক্ত কিছু না থাকা ভালো আর ব্রাশের সময় ফেনা ও পিচ্ছিল হতে হবে। ব্রাশের ব্রিসলের তিন ভাগের একভাগ পেস্ট নিলেই যথেষ্ট।
দাঁতের গঠন, অবস্থান, শারীরিক রোগ ও বয়সের ওপর নির্ভর করে ডেন্টাল চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্রাশের সঠিক নিয়ম জেনে নিতে হবে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় পেছনের বা মাড়ির দাঁতগুলো দাঁত ও মাড়ির সংযোগ স্থানকে কেন্দ্র করে মাড়ির দিকে আনুমানিক ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে ঘুরিয়ে এবং সামনের নিচের দাঁত নিচ থেকে ওপরে আর ওপরের সামনের দাঁত ওপর থেকে নিচে করে দাঁতের বাইরের ও ভেতরের পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা কার্যকর। চর্বণে ব্যবহৃত পৃষ্ঠ সামনে-পেছনে করে করা যেতে পারে। যাদের দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে তারা অবশ্যই বাজারজাত ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশের সঠিক ব্যবহার জেনে ব্যবহার করতে হবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টুথব্রাশ মুখের মধ্যকার করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টে ইনহেলার ব্যবহারকারী, কেমোথেরাপি চলছে, রক্তস্বল্পতা ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শে জীবাণুমুক্ত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা উচিত।
দাঁতের স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার : চিনিযুক্ত যেকোনো খাবার দাঁতের শত্রু, যা দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে শুরু করে শরীরের নানা রোগের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। খাবারের তালিকায় মৌসুমি তাজা ফরমালিনমুক্ত ফলমূল, শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ, ছোট মাছ, টক দই, দুধ, ডিম, পনিরসহ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-সি-যুক্ত খাবারকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুদের কৃত্রিম জুস, আলুর চিপস, ফাস্ট ফুড, চকলেট, চুইংগাম, মিষ্টি যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আর খেলেও ভালোভাবে কুলি করার কথা বলতে হবে।