‘জঙ্গিদের সংগঠিত করার মিশনে আসে মিনহাজ’

সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন হায়াত তাহরির আল শামের অনুসারী মিনহাজ হোসেন চার বছর আগে বাংলাদেশে এসে নিষিদ্ধঘোষিত নব্য জেএমবির সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা করে। আত্মগোপনে থেকে সে সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার জন্য সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করে। খুলনা থেকে ঢাকার মালিবাগ ও দারুস সালাম এলাকায় একাধিকবার সভা করে সে। সর্বশেষ দারুস সালাম এলাকা থেকে মিনহাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে থাকা তার একাধিক সঙ্গী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মিনহাজের মতো মোস্ট ওয়ান্টেড এসব জঙ্গি ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, মিনহাজের বাড়ি যশোরে, থাকত ঢাকার মালিবাগে। সেখান থেকে ছোটবেলায় মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে সে পাকিস্তান যায়। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে (ডব্লিউএফপি) চাকরির সুবাধে তার মা বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যান। সেখানে গিয়ে মিনহাজ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। পরে যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখান থেকে ব্রুনাই গিয়ে পিএইচডি করে। এরপর তুরস্ক গিয়ে সেখান থেকে সিরিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করে। সেখানেই তুরস্ক ও সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন হায়াত তাহরির আল শামের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় মিনহাজের।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তুরস্ক কিংবা সিরিয়া অবস্থানকালে মিনহাজের সঙ্গে দেশে সক্রিয় নব্য জেএমবির নেতাদের যোগাযোগ ঘটে। পরে কোনো এক মাধ্যমে নির্দেশিত হয়ে বাংলাদেশের জঙ্গিদের সংগঠিত করার মিশন নিয়ে সে দেশে আসে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পরপরই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাকে খুঁজতে থাকে। তবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে সমর্থ হয় মিনহাজ। এ সময়ে সে জঙ্গিদের সংগঠিত করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গোপন সভা ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। মিনহাজকে গ্রেপ্তারের সময় একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এসব ডিভাইসে জঙ্গি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

সিটিটিসির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিনহাজের মালিবাগের বাসা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সেখানে অভিযান করা গেলে তার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। এর বাইরে যশোর এবং খুলনার অবস্থানও শনাক্তের চেষ্টা করছে গোয়েন্দারা। মিনহাজের ডেরা থেকে পলাতকরা সবাই নব্য জেএমবির সদস্য। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর কানেকশন থাকতে পারে।’

মিনহাজ উত্তরার একটি বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করত। তার দুই ভাই দেশের বাইরে থাকে। ২০০০-০২ সালে মিনহাজ আমেরিকায় অবস্থান করে। তার অধ্যয়নের একটি অংশ ছিল ইসলাম ও র‌্যাডিক্যালাইজেশন। পড়াশোনা করতে করতেই জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়ে ওঠে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে মিনহাজ। পরে নব্য জেএমবি ও হায়াত তাহরির আল শামের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

এ বিষয়ে সিটিটিসির উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিনহাজের দেশে আসার উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে। সে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কোথায় সভা করেছে, সবই তদন্ত করা হচ্ছে।’

মিনহাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই : তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মিনহাজের কর্মকাণ্ডের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি করে দেশটির গোয়েন্দারা। ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও সিরিয়া ভ্রমণের তথ্য পাওয়ার পর তার বিষয়ে তদন্তে নামে এফবিআই। ২০১৭ সালে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে আসার আগে মিনহাজ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তখন এফবিআই তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।