নড়াইল পৌরসভা নির্বাচন: বিএনপির ৪৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি ও টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগ এনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ ৪৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু।

বুধবার রাতে নড়াইল সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অবশ্য বিএনপি মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলী মন্ডলকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।

মামলার বাদী মলয় কুন্ডু দাবি করেন, রাতের বেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে ভোট কেনারও  চেষ্টা করছে। অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে বিএনপি মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলী মন্ডল বলেন, আমি নিরবে-নিভৃতে একা একা ভোট চাচ্ছি। দলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে গণসংযোগ ও ভোট চাইতে পারছে না। আমরা কীভাবে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাবো?। নির্বাচনে যাতে আমরা মাঠে না থাকতে পারি এবং ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারি, আমার দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ মামলার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।’

সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, ভোটারদের ভয়ভীতি ও টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার অভিযোগে বিএনপির ৪৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এ মামলা এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি নড়াইল পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আঞ্জুমান আরা প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন।

এছাড়া মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মাওলানা খায়রুজ্জামান (হাতপাখা প্রতীক)।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার আলমগীর হোসেন গত সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুমান আরাকে সমর্থন দিয়েছেন। 

নড়াইল পৌরসভায় সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১১ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২৪টি এলাকা নিয়ে নড়াইল পৌরসভা গঠিত। ভোটার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৩১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৭০৪ জন এবং নারী ভোটার ১৭ হাজার ৬০৯জন। ৩০ জানুয়ারি ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।