ইউএনর হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল ৯ম শ্রেণির ছাত্রী

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল ৯ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ফারজেনা খাতুন (১৫)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন। ফারজেনা আদিতমারী উপজেলার মদনপুর গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে।

আদিতমারী থানা-পুলিশ জানায়, উপজেলার মদনপুর গ্রামের ফজলুল হকের ৯ম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা ফারজেনার বাল্যবিয়ের আয়োজন করে পরিবার। এমন একটি খবর জানতে পেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফারজেনার পরিবার বিয়ের কণে ফারজেনাকে অন্যত্র সরিয়ে তার আত্মীয় এক গৃহবধূকে নববধূ হিসেবে উপস্থাপন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত তদন্ত করে প্রকৃত কণে ফারজেনাকে শনাক্ত করে কনের মা আফরোজাকে আটক করেন। 

পরে মেয়ের বাল্যবিয়ের কথা স্বীকার করলে কণের মা আফরোজা বেগমের ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে মেয়ের মা আফরোজা বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মুচলেকা লিখে দেন।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, প্রথম দিকে স্কুলছাত্রীকে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে রেখে তার এক আত্মীয়কে বিয়ের শাড়ি পড়িয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপন করেন। পরে তদন্তর সময় একপর্যায়ে তারাই বাল্যবিয়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে মুচলেকা নিয়ে মেয়ের মাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।