মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত

ক্ষমতার শেষ সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কদের সঙ্গে ঝড়ের গতিতে অস্ত্র চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। বিদায় নেওয়ার আগে সৌদি আরবের কাছে নতুন করে ২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বোমা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল ট্রাম্পের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই দিনে কুয়েত, আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দেওয়া হয়। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি এই মুহূর্তে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন।

বিবিসি জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল তখনই সমালোচকরা বলেছিলেন, এ সরকারগুলোর মানবাধিকারের রেকর্ড ও বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষেত্রে ইয়েমেনে যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে জড়িত হওয়ায় এ ধরনের সামরিক সহায়তায় কংগ্রেস ও সাধারণ মানুষের বিরোধিতা করে আসছে। তথাপি তারা এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করছে।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক একটি থিংক ট্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৬৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন ও যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে যাওয়ারও পরিকল্পনার কথা জানায়। সংস্থাটি বলেছিল, প্রশাসন এ বিক্রির পক্ষে পূর্ণাঙ্গ যুক্তির আইনগত দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তিতে এর প্রভাব উপলব্ধিতে তারা সক্ষম হননি।

তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করা বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার উন্নতিতে সহায়তার মাধ্যমে এ বাণিজ্য তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যকে সহায়তা করবে।

তবে গত বুধবার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বাইডেন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই দেশের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের কাছে প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশনস থেকে শুরু করে আমিরাতের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির মতো সিদ্ধান্তগুলোও রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় সৌদি আরবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক পর্যালোচনা বা পুনর্মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জো বাইডেন। এখন নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে অভিষেকের এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল তার প্রশাসন। ইয়েমেনের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর ঘোষণা দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে আমেরিকা ও ইউরোপের দেওয়া অস্ত্র।