ইরাকের প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম মসুল। সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট শহরটি দখলের পর আন্তর্জাতিক বাহিনীর ব্যাপক হামলার শিকার হয় শহরটি। প্রায় তিন বছর ধরে অবিরাম বিমান হামলা চালানোর পর মসুলের আর অবশিষ্ট বলে কিছু নেই। ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করার ঘোষণা দেয়। যুদ্ধের দামামা কমলেও ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে নেই কোনো উদ্যোগ। মসুলের বাসিন্দারা অনেক অপেক্ষা করেও কোনো সরকারি সহায়তা না পেয়ে নিজেদের জমি-ঘরবাড়ি বিক্রি করে দিতে চাইছেন। অবস্থা এমন যে, মসুলের পুরান শহরের পুরো অংশই বিক্রির চেষ্টা চলছে। কিন্তু ক্রেতা অনেক কম।
আস্ত একটি শহর কিনে নেওয়ার মতো ক্রেতা সবসময়ই কম। কিন্তু যুদ্ধাবস্থা ও অনিশ্চিত হামলার মুখে খুব একটা ক্রেতা আগ্রহী হচ্ছে না ঐতিহাসিক ওই শহরটিকে কিনতে। শহরের যেদিকেই চোখ যাবে সেখানেই ধ্বংসস্তূপ। কোথাও হয়তো ইসলামিক স্টেটের পেতে রাখা স্থল মাইন আছে, যা এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ পাওয়া যায়। এমন বাস্তবতা শহর বিক্রির ক্রেতা পাওয়া দুস্কর।
মসুলের পাশ দিয়ে যাওয়া টাইগ্রিস নদীর তীরবর্তী কিছু বাড়ি আজও অক্ষত দেখতে পাওয়া যায়। ওই বাড়িগুলো ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও আইএসের পেতে রাখা বোমার ভয়ে কেউ সেদিকে যেতেও আগ্রহী হয় না। স্থানীয় ৬২ বছর বয়সী সাদ গ্রেসিস এএফপিকে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে আমি পুরান শহরে আমার বাড়ি বিক্রি করতে চাইছি। বাড়িটি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেখানে বাস করা যায় না। কিন্তু কেউ আমাদের বাড়ি কিনতে চাইছে না। কারণ আমাদের বাড়ির আশপাশ থেকে বাজে গন্ধ আসে।’ ২০১৪ সালে মসুলের দখল নিয়েছিল ইসলামিক স্টেট। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ব্যাপক লড়াইয়ের পর ইরাকি সেনাবাহিনী মসুল থেকে আইএস যোদ্ধাদের তাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকেই মসুলের পুরান শহরে বাসিন্দারা অপেক্ষা করে আছে সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতার জন্য। কিন্তু দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একাধিক ভাগে বিভক্ত।
সাদ আরও বলেন, ‘বাড়িটি আমি কিনেছিলাম প্রায় ৫০ হাজার ডলারে। কিন্তু এখন এর তিন ভাগের এক ভাগও দাম পাচ্ছি না। পুরান শহরের সব বাড়িরই একই অবস্থা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহর পুনরুদ্ধারে সরকার আমাদের কোনো সাহায্য করেনি। সরকারি কোনো দপ্তর খেলেনি। সেতুগুলো ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেই।’ স্থানীয় প্রশাসন মতে, মসুল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বরাবর ৯০ হাজার ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বাগদাদ মাত্র আড়াই হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছে।